পটুয়াখালীর দশমিনায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মা ইলিশ আহরণের সময় আট জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক প্রত্যেক জেলেকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
শনিবার সকাল ও বিকেলে তেঁতুলিয়া নদীতে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার এবং গলাচিপা উপজেলার চরশিবা গ্রামের জেলেরা রয়েছেন। এ সময় ৩ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও তিনটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপা উপজেলার ছোটশিবা গ্রামের মৃত আনছার জোমাদ্দারের ছেলে মো. লিটন জোমাদ্দার (৪০), ধীরেন রানার ছেলে দিরীপ রানা (৪৫), আ. রব হাওলাদারের ছেলে মো. নিরব (২৮), খলিল হাওলাদারের ছেলে মো. রাব্বি হাওলাদার (২২), আমির হোসেনের ছেলে মো. রাসেল (২৭), মৃত আজীজ কাজীর ছেলে মো. বাবুল হোসেন (৩৮), ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার লাংপাতা গ্রামের মো. আফির উদ্দিন কাজীর ছেলে মো. রাজ্জাক কাজী (৫০) এবং মান্নান হাওলাদারের ছেলে মো. জসিম হাওলাদার (৪৫)।
উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর ও নৌপুলিশ ফাঁড়ির যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মৎস্য সংরক্ষণ আইনে প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। জব্দ করা কারেন্ট জাল হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফেরদাউস, উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ফিল্ড অফিসার রহমাতুল্লাহসহ নৌপুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলা—চরফ্যাশন ও গলাচিপার আট জেলেকে অবৈধভাবে মা ইলিশ আহরণের সময় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।








