বাগেরহাটে ডিজিটাল মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সিমকার্ড ক্লোন করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৮০ হাজার টাকা ও ২০টি মোবাইল সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের সিমকার্ড ক্লোন করে প্রতারণা করে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের ইয়াছিন সওদাগর (২১), মোংলা উপজেলার মাদুরপাল্টা গ্রামের শামীম শেখ (২৭), বাগেরহাট সদর উপজেলার বাগদিয়া গ্রামের রাশেদ মোড়ল (২০), মোরেলগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব সরালিয়া এলাকার এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বানাতিবাজার এলাকার ফেরদাউস (২১), মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ষোলআনি এলাকার আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), একই উপজেলার জাইসতালা এলাকার মেহেদী হাসান (২৯), বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী এলাকার মো. নাজমুল হাসান (২০) এবং পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ভয়াং এলাকার মো. মামুন গাজী (২১)।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম জানান, গত ২৭ জুন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা বাজারে বিকাশ ও নগদে লেনদেনকারী দুই ব্যবসায়ীর মোবাইল সিম ক্লোন করে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এই সংঘবদ্ধ আন্তজেলা প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়।
রবিবার থেকে সোমবার রাত পর্যন্ত বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ১১টি মোবাইল ফোন, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও ২০টি মোবাইল সিমকার্ডসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রতারকরা প্রথমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করে। ক্লোন করা ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তারা বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের নামে সিমকার্ড তোলে। এরপর গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে লগইন করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে।
কলসেন্টারে ফোন করে তারা জানায়, ‘আমার অ্যাকাউন্ট নম্বরটি ব্লক হয়ে গেছে, এটি চালু করতে চাই।’ তখন কলসেন্টার থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হলে প্রতারক চক্রটি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষজনক উত্তর দেয়। এতে তারা অ্যাকাউন্টের প্রকৃত মালিক বলে মনে করে কলসেন্টার থেকে অ্যাকাউন্টে লগইন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর চক্রের সদস্যরা বিকাশ ও নগদের গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় মোংলা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।









