পটুয়াখালীর বাউফলে এক সনাতন ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় দুই সাংবাদিকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিচারক শহীদুল্লাহ এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন এনামুল হক এনা (৩৫) ও মো. রিয়াজ (৩৫)। মামলার নথিতে তাঁদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। এনামুল হক এনা বাউফলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও স্টার নিউজের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন বলে জানা গেছে এবং রিয়াজ দৈনিক জাগো জনতার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রতন মণ্ডল (৩২) বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খাজুরবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত রবীন্দ্র চন্দ্র মণ্ডল।
এজাহারে রতন মণ্ডল অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামে তাঁর বাড়ির সামনের বারান্দায় গিয়ে আসামিরা একটি বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে নিজেদের সাংবাদিক ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাঁদের ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরের দিন ওই পরিবারের কাছে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয় ।
এ ঘটনায় রতন মণ্ডল ২৮ জুলাই বাউফল থানায় মামলা করেন। মামলায় এনামুল হক এনা ও মো. রিয়াজের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও আরো ৫/৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার পর আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছেন। পরে পটুয়াখালী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। রবিবার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে একটি মুসলিম পরিবারের মেয়ে প্রেমের সম্পর্ক করে পালিয়ে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে ওই নারী হিন্দু ধর্ম পালন করছেন এবং তাঁদের সংসারে আট মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।









