জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পটুয়াখালীতে গণপরিবহনে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস কাউন্টারে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা রুটে এখনো নতুন ভাড়া কার্যকর হয়নি। এসব রুটে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে বাস মালিক সমিতির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পটুয়াখালীর সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার রাতুল জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর ঢাকা রুটের ভাড়া সমন্বয়ের জন্য তাদের অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের ভাড়ার সঙ্গে ৫০ টাকা যোগ করে বর্তমানে জনপ্রতি ৭৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, সব কাউন্টারে একই হারে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও ৫০ টাকা বাড়তি নেওয়া হলেও কোনো কোনো কাউন্টারে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকাগামী যাত্রী শিহাব উদ্দিন বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর বাসভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু কিছু কাউন্টারে নির্ধারিত বাড়তি ভাড়ার চেয়েও বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।
আরেক যাত্রী মারুফ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় যাতায়াত খরচ বেড়েছে। এর পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়লে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পরিবহন মালিকদের বৈঠকে বাসভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায়। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
পটুয়াখালীর স্থানীয় বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন আন্তঃজেলা রুটে এখনো নতুন ভাড়া কার্যকর করা হয়নি। সরকারি নির্ধারিত ভাড়া, জ্বালানি খরচ ও বাস পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মালিক সমিতির বৈঠকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।









