পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামে সম্পত্তি নিয়ে বাবা-ছেলের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। নিজের কেনা জমিতে নির্মিত ঘরেই থাকতে পারছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন কারি আব্দুল মান্নান শিকদার। তাঁর দাবি, দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই ছোট ছেলে মাওলানা তাজুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়। একপর্যায়ে জমি ও ঘর নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
কারি আব্দুল মান্নান শিকদারের দুই ছেলে। বড় ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম এবং ছোট ছেলে মাওলানা তাজুল ইসলাম। বৃদ্ধের অভিযোগ, অনেক কষ্ট করে ছোট ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল ছেলে বড় একজন আলেম হবেন। কিন্তু প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার সাত-আট মাস পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলে ছেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
আব্দুল মান্নান শিকদারের অভিযোগ, নিজের লাগানো আমড়াগাছের আমড়া পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তারও হতে হয়। পরে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে কেনা জমিতে নির্মিত ঘর থেকেও তাঁকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে মির্জাগঞ্জে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। নিজের ঘরে ফিরে যেতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি। তাঁর অভিযোগ, ছেলের পক্ষ থেকে তাঁকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুল মান্নানের দাবি, ৫ আগস্টের পর তাঁর ছেলে জামায়াতের নবাবগঞ্জ ওয়ার্ডের সভাপতি হয়েছেন। এরপর থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, যে জমি ও ঘর নিয়ে বিরোধ, সেটি আব্দুল মান্নান শিকদারের কেনা সম্পত্তি বলে তারা জানেন। তবে বিরোধের প্রকৃত মালিকানা ও লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত দলিল নেই। তাদের দাবি, বৃদ্ধ বর্তমানে ওই ঘরে বসবাস করতে পারছেন না।
তবে বাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর বাবা স্ট্যাম্পে লিখে জমিটি তাঁর কাছে বিক্রি করেছেন। এ বাবদ শহরে এসে তাঁর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জমিটি তাঁর বাবার নামে রেকর্ডভুক্ত না থাকায় এখনো দলিল করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তাজুল।
তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ঘরটি তিনি নিজেই নির্মাণ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বাবার করা অভিযোগ সঠিক নয়। জমি ও ঘর নিয়ে বিরোধটি সম্পূর্ণ পারিবারিক এবং এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বাবা-ছেলের পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগে এলাকায়ও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা ও কার দাবি আইনগতভাবে সঠিক, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয়।









