পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচর এলাকায় বিষ প্রয়োগ করা ঘাস খেয়ে একটি গর্ভবতী মহিষের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মমিনপুর গ্রামের মো. রবিউল দুয়ারীর মহিষটি মারা যায়। এ ঘটনায় পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মহিষের মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গত রোববার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচর এলাকায় মহিষগুলোকে সবুজ কাঁচা ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান রবিউল দুয়ারী। ঘাস খাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার গর্ভবতী মহিষটি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্নভাবে সুস্থ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সোমবার বিকেলে মহিষটি মারা যায়।
মহিষটির মালিক মো. রবিউল দুয়ারীর দাবি, লালচর এলাকার সবুজ ঘাসে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। ওই বিষাক্ত ঘাস খাওয়ার কারণেই তার মহিষটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে ঘাসে কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মৃত মহিষটির আনুমানিক বাজারমূল্য দুই লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন মালিক। একই সঙ্গে মহিষটি গর্ভবতী হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন রবিউল দুয়ারী।
মহিষটির মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে কেউ যদি ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকে, তাহলে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে শুধু তার মহিষের ক্ষতি হয়নি, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় চরানো অন্যান্য গবাদিপশুও একই ধরনের বিষক্রিয়ার শিকার হতে পারে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, লালচর এলাকায় নিয়মিত বিভিন্ন কৃষক ও খামারি তাদের গবাদিপশু চরাতে নিয়ে যান। সেখানে যদি সত্যিই ঘাসে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। তা না হলে একই ধরনের ঘটনায় আরও গবাদিপশুর মৃত্যু হতে পারে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মহিষের মালিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘাসে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে মহিষটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ বিভাগের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তদন্তের পরই মহিষটির মৃত্যু বিষক্রিয়ায় হয়েছে কি না এবং ঘাসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।








