পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিযোগিতা। চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার কম হওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র শিক্ষার্থীসংকট। ফলে কাক্সিক্ষত শিক্ষার্থী পেতে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীর যাওয়ার মতো করে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন। উপজেলায় রয়েছে ১টি সরকারি কলেজ, ৩টি মহিলা কলেজ, ৩টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান, একাধিক সাধারণ কলেজ এবং পাঙ্গাসিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা ও পাংগাশিয়া আল মদিনা মহিলা ফাজিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি নামকরা আলিম ও ফাজিল মাদ্রাসা। এর মধ্যে সরকারি জনতা কলেজ, আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ, দুমকি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট মহিলা কলেজ, এলএমএ ইউনাইটেড মহিলা কলেজ, নাসিমা কেরামত আলী মহিলা কলেজ, কদমতলা কলেজ, পাঙ্গাসিয়া কলেজ, দক্ষিণবঙ্গ কৃষি কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং আহমেদ হারুন কারিগরি বিএম ইনস্টিটিউট অন্যতম।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দুমকির ২৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৮০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৫০৭ জন। অন্যদিকে মাদ্রাসা বোর্ডে ৫৬৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৬০ জন। উপজেলায় সর্বমোট পাসের তুলনায় কলেজগুলোতে খালি আসনের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে সরাসরি তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হাজির হচ্ছেন। শিক্ষকদের এমন প্রাক-ভর্তি প্রতিযোগিতায় অভিভাবকেরাও পড়েছেন বিপাকে। সেতারা বেগম নামের এক অভিভাবক জানান, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকেরা এসে তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার জন্য নানাভাবে বোঝাচ্ছেন। সব স্যারই পরিচিত হওয়ায় কাকে রেখে কোথায় সন্তানকে ভর্তি করাব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। উপজেলার সিংহভাগ শিক্ষার্থীর প্রথম পছন্দ একমাত্র সরকারি কলেজটি। ফলে বেসরকারি, কারিগরি ও মহিলা কলেজগুলোতে আবেদনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। আজিজ আহমেদ ডিগ্রি কলেজ প্রভাষক মোঃ এবাদুল হক জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ৪৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৪১টি। শেষ পর্যন্ত এরা ভর্তি হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারিগরি ও অন্যান্য কলেজ: কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বাহাউদ্দিন ও অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন জানান, কারিগরি শিক্ষার সুবিধা বোঝা সত্ত্বেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর পটুয়াখালী সদর থেকেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা দুমকিতে এসে শিক্ষার্থী নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কলেজের অস্তিত্ব রক্ষা ও মান বজায় রাখতে আসন বা কোটা কমানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন উপজেলার শিক্ষকবৃন্দ









