পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে আউশ ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটেছে। এবার আউশ ধানের ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আউশ চাষের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলার কৃষকরা উন্নত ফলনশীল জাতের ব্রি-৪৮ আউশ ধান চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছে। উপজেলার কৃষকরা ব্রি-৪৮ জাতের আউশ ধান চাষে ব্যাপকভাবে সফল হয়েছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শস্য বিন্যাস ভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে আউশ ধানের চাষ করা হয়। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে প্রদর্শনী ব্লকের মাধ্যমেও আউশ ধানের আবাদ করা হয়।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে সদর ইউনিয়নসহ রণগোপালদী, আলীপুরা, বেতাগী সানকিপুর, বহরমপুর, বাঁশবাড়িয়া ও চরবোরহান ইউনিয়নে সর্বমোট ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান চাষাবাদ করা হয়। এতে উপজেলায় ৮,৮৪০ মেট্রিক টন আউশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে আউশের বাম্পার ফলন হওয়ায় আউশ চাষে কৃষকরা আগামীতে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, রবি মৌসুমে মুগডালসহ অন্যান্য রবি শস্য তোলার পরবর্তী সময় থেকে রোপা আমন ধান রোপনের পূর্ববর্তী মধ্যবর্তী সময় টুকুতে বেশির ভাগ জমিই পতিত থাকে। এই সময়কালীন আউশ আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সভা, গ্রুপ মিটিং এবং সরকারী প্রনোদনা বীজ, সার ও কীটনাশক প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের আউশ ধানের আবাদে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়। যার প্রেক্ষিতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর আউশের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভাল হয়েছে। বাজার দরও ভাল হবে। বর্তমানে প্রতি মণ আউশ ধান ১হাজার টাকা থেকে ১হাজার ৫শত টাকার মধ্যে উঠানামা করবে বলে কৃষকরা জানিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেতের আউশ ধানই এক সপ্তাহের মধ্যে কাটা শেষ হবে। কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে কাটা শুরু হয়ে গেছে। কৃষকরা জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ, সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এই বছর জমিতে ব্রি-৪২ প্রজাতির আউশ ধান রোপন করে সফল হয়েছি এবং অনেক ভাল ফলন হয়েছে। কৃষকরা আশা করছে তারা অনেক লাভবান হবে। উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিন আদমপুর গ্রামের কৃষক ফোরকান মো.শামীম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনায় আমি ৩৩ শতক জমিতে নতুন প্রজাতির ব্রিধান-৮৪ জাতের আউশ ধান চাষ করে অনেক সফল হয়েছি। ইতিমধ্যে আমার জমির ধান পেঁকে গেছে। আমি আগামীতেও এই প্রজাতির আউশ ধানের চাষ করবো। উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের কৃষক মো. জসিম খান জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও উৎসাহে আমি ৩৩ শতক জমিতে ব্রিধান-৮৪ জাতের আউশ ধান চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার দিয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে ভাল ফলন হয়েছে। তারা মাঠে এসে খোঁজ খবর নিয়েছে। দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.জাফর আহমেদ জানান, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং সরকারী প্রনোদণা ও মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে উপজেলায় চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। ফলে আউশ চাষে কৃষকরা বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে পারবে।









