তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণ মিলেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরের বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস আখতার জাহানের নিয়োগ বিধি মোতাবেক হয়নি, সরকারি বাসভবনে থেকেও বাসাবাড়া উত্তোলন করেছেন, চতুর্র্থ শ্রেণির কর্মচারি পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ঘুস নিয়েছেন।
এসব অনিয়মের ঘটনায় বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অন্যত্র বদলি করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত গত ২৫ আগষ্টের এক চিঠির মাধ্যমে ও বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি জিএম ফারুক ও সাবেক অভিভাবক মিজানুর রহমানের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও।
তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু। অন্য দুই সদস্য ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পার্থ সারথী দত্ত ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
বিদ্যালয় সূত্রে ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক দুইজন স্নাতক ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগের কথা উল্লেখ আছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষক হলেন নার্গিস আখতার জাহান। কিন্তু নার্গিস আখতারের দাখিলকৃত ১৯৯৩ সালের স্নাতক পাশের নম্বরফর্দ অনুযায়ী স্নাতকে ইংরেজি বিষয় নাই এবং স্নাতকে তিনি তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর যোগদানপত্র অনুযায়ি তিনি ১৯৯৯ সালের ১ আগষ্ট ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর একই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সরকারিকরণ করা হয়।
১৯৯৫ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী যে বিষয়ে নিয়োগ হবে স্নাতকের পাঠ্য বিষয়ে অবশ্যই সেই বিষয় থাকতে হবে এবং সব শ্রেনিতে দ্বিতীয় বিভাগ থাকতে হবে। এ কারণে তাঁর সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কমিটি।
তিনি (নার্গিস আখতার) বিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে থেকেছেন এবং সরকারিভাবে বাসাভাড়া পেয়েছেন। কিন্তু বাসাভাড়ার টাকা কর্র্তন না করে পূর্ণ ভাতাদি উত্তোলন করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন তদন্ত কমিটি।
ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি আ. রহিম গাজীর ছেলে মো. রাসেল গাজীকে চতুর্থ শ্রেণির চাকুরি দেওয়ার কথা বলে নার্গিস আখতারের ৭৫ হাজার টাকা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সত্যতা পেয়েছেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।
অভিযোগকারী জিএম ফারুক অভিযোগ করেছেন,যখন তাঁর (নার্গিস আখতার) নিয়োগ হয়েছে তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তাঁর বাবা ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর এক ভাই ফরহাদ হোসেন বাউফল পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আরেক ভাই অহিদুজ্জমান ডিউক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। এ কারণে কোনো নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ পেয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেছেন,২০১৩ সালে প্রধান শিক্ষকের থাকার জন্য বিদ্যালয়ের মধ্যে পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি কাউকে না জানিয়ে তিনি তাঁর মালিকানাধীন বাসায় চলে যান। বাসাভাড়ার টাকা না দেওয়ার জন্য ওই বাসভবনটিকে পরিত্যক্ত বানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন প্রধান শিক্ষক নার্গিস আখতার। আর তাঁকে সহায়তা করছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিরা।
প্রধান শিক্ষক নার্গিস আখতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,‘স্নাতকে তাঁর ইংরেজি বিষয় ছিল না। নিয়োগ কমিটি যাচাই বাছাই করার পরে তাঁকে ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। পরে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।’বিভাগীয় মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হবে।’









