পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়কের একটি বড় অংশ হঠাৎ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই নদীভাঙনের পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে বিপুলসংখ্যক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় মালামাল ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধ ও পাকা সড়কে বড় ধরনের ধস নামে। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিশাল একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার আশঙ্কায় হাজিরহাটসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভাঙন আরও বিস্তৃত হলে এলাকাটি পুরোপুরি পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা উদ্ভূত পরিস্থিতিকে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “হঠাৎ বেড়িবাঁধ ও সড়ক ধসে পড়ায় বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত জানিয়েছি। পাউবোর প্রতিনিধি দল এসে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করবে। আপাতত স্থানীয়দের সুরক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সবাইকে সরিয়ে নেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ ঠেকাতে অবিলম্বে জিও ব্যাগ ফেলার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ভাঙনরোধী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।









