পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত হাজির হাট এলাকা রক্ষায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে সর্বস্তরের লোকজন এ মানববন্ধন করেন।
জানা গেছে, দশমিনা উপজেলার একমাত্র বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজির হাট। এ এলাকার পাশ দিয়ে ঢাকাগামী নৌযানসহ পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে মালামাল পরিবহনের জাহাজ চলাচল করে। গত ১৫-২০ বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীর করাল গ্রাসে হাজির হাটের বাণিজ্যিক এলাকা ভাঙতে ভাঙতে ছোট হয়ে আসছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি কৃষিজমি, শতাধিক বসতঘর ও কবরস্থান।
হাজির হাট এলাকা রক্ষার শেষ সম্বল বেড়িবাঁধটি গত মঙ্গলবার গভীর রাতে আকস্মিকভাবে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে এলাকার প্রায় ৫০টি ঘরবাড়ি, একশ একর ফসলি কৃষিজমি এবং একটি গোরস্তান পানিতে তলিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওই রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেন।
এ ঘটনায় হাজির হাট এলাকার সাধারণ জেলে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লোকজন মানববন্ধনে অংশ নেন। পরে তারা হাজির হাট এলাকা রক্ষায় জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাজির হাটের ভাঙন আজকের একদিনের সমস্যা নয়; এটি বহু বছরের সমস্যা। বিগত সরকারের উদাসীনতা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত কাজের কারণে আজ হাজির হাট এলাকা তেঁতুলিয়া নদীর আগ্রাসনের শিকার। বিগত দিনগুলোতে হাজির হাটের ভাঙন রোধের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাদ্দের অর্থ লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে দশমিনা সদর ইউনিয়নও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানববন্ধনের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে হাজির হাটের ভাঙন রোধে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন ভাঙনকবলিত হাজির হাট এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সরেজমিনে ভাঙনের বাস্তবচিত্র ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় লোকজন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত তাদের নিরাপদ আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করতে। তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা শুধু বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সঠিক ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন বলেন, বালুর বস্তা ফেলে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করা যায় না। এর জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তবচিত্র দেখে গেছেন। ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









