বরগুনার আমতলীতে সহপাঠীর দেওয়া আখরোট খেয়ে একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনের বেলায় ক্লাস এবং রাতে কোচিং চলে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির কোচিং চলাকালে আবির (১৩) নামের এক ছাত্র তার সাত সহপাঠীকে আখরোট খেতে দেয়। আখরোট খাওয়ার পরপরই ওই সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বমি শুরু হয় এবং কারও কারও খিঁচুনি দেখা দেয়।
ঘটনার পর উপস্থিত অভিভাবক ও সহপাঠীরা অসুস্থ ছাত্রীদের দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অসুস্থ ছাত্রীরা হলো—সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলমা (১৩), সামিয়া (১৩), মিম (১৩), ফাতেমা (১৩), তানিয়া (১৩), উর্মি (১৩) ও মরিয়ম (১৩)।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বারবার বমি করছে। অনেকের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্যালাইন দিয়েছেন।
শিক্ষার্থী ফাতেমার বাবা আবুল হোসেন মেয়ের অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
শিক্ষার্থী এলমার বাবা রিয়াজ উদ্দিন প্যাদা বলেন, ‘মেয়েকে স্কুলে পড়তে দিয়েছি। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা আশা করিনি।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান নান্নু বলেন, ‘কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা আমরা এখনো বুঝতে পারছি না। তবে আবির নামে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ ছাত্রীদের আখরোট খেতে দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’
উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভেন্দু রায় শুভ জানান, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কী কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, তা প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার পর বলা যাবে।









