বরগুনায় আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ঢালাইয়ের সময় হঠাৎ ধসে যাওয়ায় সাত দিনের জন্য সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
রোববার সকালে ঢালাইয়ের সময় লেকের মূল গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে প্রায় ১০-১৫ বর্গফুট অংশের সেন্টারিং সরে গিয়ে ঢালাই ধসে পড়ে। এরপর ওই অংশের কাজ বন্ধ করে দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘লোকাল গভর্নমেন্ট কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ঝালকাঠির ‘ইসলাম ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। পরে সেখান থেকে সাবেক পৌর মেয়র কাজটি কিনে নেন বলে জানা গেছে।
২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম কাজটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর ওয়াকওয়ের সড়কের ঢালাইসহ পিলার বসানোর কাজ শেষ হলেও মূল গোলচত্বরের সেন্টারিং করে প্রায় এক বছর ধরে কাজ ফেলে রাখা হয়।
এদিকে ঢালাই ধসে পড়ার খবর পেয়ে সোমবার সকালে প্রকল্পের বরিশাল বিভাগীয় পরামর্শক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঢালাইয়ের সময় ওয়াকওয়ের একটি অংশ ধসে গেছে। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। দৈনিক কালবেলার আমতলী প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ভিডিও করার সময় তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি রোববার রাতে আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, সাংবাদিকরা পরিচয় না দিয়ে তাঁর ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ কারণে তিনি ভিডিও করতে নিষেধ করেছেন। এর বাইরে কিছু হয়নি।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঠিকাদারের পক্ষে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. পান্নু মোল্লা বলেন, ঢালাইয়ের সময় সেন্টারিংয়ের কাঠ সরে যাওয়ায় সামান্য ধস নেমেছে। বিষয়টি দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান জানান, লেকের পানির মধ্যে ওয়াকওয়ের মূল গোলচত্বরটি ছয় ইঞ্চি পুরু দুই স্তরে এক ফুট উঁচু করে ঢালাই করার কথা ছিল। একটি স্তরের ঢালাইয়ের সময় গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশের একটি অংশের সেন্টারিং সরে গিয়ে ঢালাই ধসে পড়ে। প্রায় এক বছর আগে সেন্টারিং করে রাখায় কাঠ পচে যাওয়ার কারণেও এমনটি হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









