বরগুনার তালতলীতে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কইতুরী বেগম (ছদ্মনাম), ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. বশির মিয়া (৩৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
এমন অভিযোগ করেছেন ওই বৃদ্ধা। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত বশির মিয়াকে আটক করে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বশিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া কিল্লা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার মরানিদ্রা গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে বশির মিয়া বাঁশ কিনতে নলবুনিয়া কিল্লা এলাকায় যান। ওই এলাকার ওই বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে বাঁশ কাটার জন্য একটি দা প্রয়োজন বলে তিনি বৃদ্ধাকে জানান। কিন্তু ঘরে দা না থাকায় বৃদ্ধার সঙ্গে থাকা নাতনিকে অন্য বাড়ি থেকে দা আনতে পাঠানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগে বশির মিয়া ওই বৃদ্ধাকে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখান। বৃদ্ধা এতে রাজি না হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃদ্ধার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় অভিযুক্ত বশির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বশিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, বশির দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। পরে তাকে ধাওয়া করে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই বৃদ্ধা বলেন, ‘মোর আর মান-ইজ্জত কিছুই রইল না। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা বলে আমার সর্বনাশ করেছে। আমি ওর বিচার চাই।’
অভিযুক্ত মো. বশির মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলেছি, কিন্তু তার সঙ্গে খারাপ কোনো কাজ করিনি।’
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশ কেনার কথা বলে বৃদ্ধা এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক ঘটনার অভিযোগে মো. বশির মিয়া নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’









