পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের হাজীরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোত ও পানির চাপে ভয়াবহ নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার পরেই হাজীরহাট বাজারের জামে মসজিদের উত্তর পাশে পানীর তীব্র স্রোত ও চাপ লক্ষ্য করা গেছে। পানির চাপে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া জিওব্যাগ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়,হঠাৎ নদীর ভাঙনে ২০টি কবর নদীগর্ভে চলে গেছে। এলাকার বাসিন্দারা নদীর ভাঙনের রাক্ষুসে রূপ দেখে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। নদীর ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ও থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো.আতিকুল ইসলাম। নদীর ভাঙনের রাক্ষুসে রূপ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে। উৎসুক জনতা নদীর ভাঙনের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে দিয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হাজিরহাট লঞ্চঘাটের উত্তর পাশে নদীর তীর রক্ষা বাঁধ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ পানি তীব্র স্রোতের টানে ধসে পড়ে পানিতে ডুবে গেছে। তীর সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ ও মাটি নদীতে বিলীন হবার সাথে সাথে সড়কের সংযোগস্থলে বড় ধরনের ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তেঁতুলিয়া নদীতে পানির চাপ ও তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। হাজীরহাট লঞ্চঘাট ও মসজিদ সংলগ্ন নদীর তীরে ধস দেখা দেয়। নদীর ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্রোতের টানে ব্যাগগুলো নদীতে বিলীন হতে চলছে। বাঁধের পাশে সড়কের কার্পেটিং ও মাটি ধসে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে।
নদীর ভাঙন কবলিত এলাকার বাসিন্দা নিজাম বলেন,রাতের মধ্যে আমাদের ঘরবাড়িসহ অন্যান্য স্থান নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমাদের থাকার আর কোন যায়গা নেই। অন্য লোকজনের সহায়তায় ঘরের মালপত্র সরিয়ে নিয়েছি। এখন থেকে হয়তো অন্যের বাড়িতে থাকতে হবে। তিি আরও বলেন,তার বাবা খলিল মিয়া গত বছর মারা যান। তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নদীর ভাঙনে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বাবা ও দাদার কবরের মরদেহ অন্য কবরস্থানে পূনরায় দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরেই নদীতে পানির তীব্র স্রোতে প্রায় ২০টি কবর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। কবরগুলো রক্ষা করার মত কেউ সময় পায়নি। গতকাল বুধবার সকালে নদীতে পানির তীব্র চাপ ও স্রোতের রাক্ষুসে রূপ দেখা গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় বসবাসকারীরা জানায়,তাদের থাকার মতো অন্য কোন জমি নেই। পরবর্তী দিনগুলো কিভাবে কাটবে তা কেউ জানে না। অনেকের আত্নীয় স্বজনের কবর নদীতে বিলীন হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে নদীশাসন ও তীররক্ষা বাঁধ টেকসই ভাবে নির্মান না করা হলে হাজিরহাট লঞ্চঘাট ও জামে মসজিদসহ আশেপাশের এলাকা ভাঙনের হুমকির মধ্যে পড়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করেন। তিনি বলেন,নদীর তীব্র স্রোতে সড়কের সংযোগস্থল ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এদিকে নদী তীরবর্তী ভাঙন কবলিত এলাকার ঝুঁকিপূর্ন বাড়িঘর থেকে কয়েকটি পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদ ও সাইক্লোন শেল্টারে সরিয়ে নেয়া হয়। তবে ভাঙন রোধে দীর্যমেয়াদী ও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প গ্রহন না করা হলে উপজেলা সদরের হাজীরহাট লঞ্চঘাট,মসজিদ,তীররক্ষা বাঁধ,বেড়িবাঁধ,ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। ভাঙন কবলিত এলাকায় ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছে।








