নৌযান শুমারির তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর জন্য প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে নাশতা এবং দুপুরের খাবারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ ৬৭০ টাকা। অথচ নাশতা না করিয়ে এবং দুপুরে মুরগি-পোলাও খাইয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের খাবারের সিংহভাগ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মনিরুল হকের বিরুদ্ধে।
জেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের নৌপরিবহন খাতকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে এবং তথ্যভিত্তিক একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডেটাবেইস তৈরিতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো যৌথভাবে চলতি মাসের ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযান শুমারি পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। ওই শুমারি বাস্তবায়নে দশমিনায় ১৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও দুজন জোনাল অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চলতি মাসের ১৫, ১৬ ও ১৭ আগস্ট উপজেলা প্রশাসন পরিচালিত বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে তিন দিনব্যাপী ওই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে প্রশিক্ষণ। শুমারির কার্যক্রম শুরু হয় ২০ আগস্ট এবং শেষ হয় ২৯ আগস্ট।
এতে প্রশিক্ষক ছিলেন উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. মনিরুল হক। প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী ও প্রশিক্ষকসহ ২২ জনের বিপরীতে তিন দিনের প্রতিদিন জনপ্রতি খাবারের জন্য ৬৭০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০ শতাংশ ভ্যাট কর্তনের পর প্রতিদিন জনপ্রতি ৪৬৯ টাকা বরাদ্দ থাকে।
প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ও বিকেলে নাশতা দেওয়া হয়নি। দুপুরে খাবার হিসেবে মুরগির গোশত, পোলাও ভাত ও ডিম দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃতীয় দিন সকালে নাশতার ব্যবস্থা ছিল, যাতে সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয়েছে ২৫ টাকা।
দশমিনায় সরকারিভাবে কোনো খাবারের আয়োজন করা হলে সাধারণত উপজেলা পরিষদের সামনে শহিদ মিয়ার খাবারের হোটেল থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সেখানে মুরগির গোশত, পোলাও ভাত ও ডিমের জন্য ১৬০ টাকা নেওয়া হয়। একদিনের বিকেলের নাশতার জন্য ২৫ টাকা বাদে প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর ২৮৫ টাকা করে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী বলেন, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে শুমারির কাজে নেওয়া হয়েছে। খাবারের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানোর পর তিনি (মনিরুল হক) তাঁদের ভবিষ্যতে কোনো শুমারি হলে কাজে নেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন এবং এ বিষয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ না করার জন্য অনুরোধ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জেলা শহর ও পাশের দুটি উপজেলার প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশিক্ষণের প্রথম দিন সকালে প্রত্যেককে একটি করে ডিম, এক পিস কেক ও একটি কলা এবং দুপুরে সাদা ভাত, সালাদ, দেশি মুরগির গোশত, ভর্তা, সবজি, ডাল ও ছোট সাইজের পানীয় (মোজো) দেওয়া হয়। বিকেলে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় দিন সকালের নাশতায় দই ও কেক এবং দুপুরে মুরগির গোশত, পোলাও ভাত, ডিম ও ছোট সাইজের পানীয় (মোজো) দেওয়া হয়। বিকেলের নাশতায় চায়ের সঙ্গে বিস্কুট দেওয়া হয়।
তৃতীয় দিন সকালের নাশতায় একটি করে আপেল ও এক পিস কেক এবং দুপুরে মুরগির গোশত, পোলাও ভাত, ডিম ও ছোট সাইজের পানীয় (মোজো) দেওয়া হয়। বিকেলের নাশতায় চায়ের সঙ্গে জিলাপি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মনিরুল হক বলেন, ‘তিনি সকাল ও বিকেলে প্রশিক্ষণ ভবনের অদূরে চায়ের দোকানে নাশতার ব্যবস্থা করেছেন। বরাদ্দের চেয়ে আরও বেশি টাকা তাঁর খরচ হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।’
জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









