পটুয়াখালীর বাউফলে আমন মৌসুমকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই কৃষকেরা ছুটে যাচ্ছেন মাঠে। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ ও মই দেওয়ার কাজে ব্যস্ত, আবার কেউ প্রস্তুত করা জমিতে ধানের চারা ও বীজ রোপণ করছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন চলছে আমন আবাদে জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে বাউফল উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই কৃষকেরা জমিতে নেমে পড়েছেন। অনেক জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি চাষ করে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও আবার কৃষকেরা দলবদ্ধ হয়ে ধানের বীজ ও চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের ব্যস্ততায় মাঠজুড়ে যেন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এবারের আমন মৌসুমে কৃষকেরা উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধানের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের ধান চাষেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। স্থানীয় জাতের মধ্যে লোতর মোটা, সাদা মোটা ও কাজলশাইল ধানের বীজ রোপণ করছেন অনেক কৃষক। এসব স্থানীয় জাতের ধানের স্বাদ, বাজার চাহিদা ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে অনেক কৃষক এখনো ঐতিহ্যবাহী জাতগুলো ধরে রেখেছেন।
কেশবপুরের ভরিপাশা গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান হাওলাদার জানান, আমন ধান তাঁদের প্রধান ফসলগুলোর একটি। সময়মতো জমি প্রস্তুত করে ধান রোপণ করতে পারলে ভালো ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিশ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
কৃষক মো. নিজাম হাওলাদার বলেন, ‘ভোরে মাঠে আসি, দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাজ শুরু করি। এখন জমি প্রস্তুত ও ধান রোপণের সময়। সময়মতো রোপণ শেষ করতে পারলে ভালো ফলনের আশা করছি।’
আরেক কৃষক মো. জাহাঙ্গীর সিকদার জানান, উচ্চফলনশীল জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের ধানও চাষ করছেন তিনি। স্থানীয় জাতের ধানের ফলন তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হলেও এর চালের মান ও স্বাদের কারণে বাজারে চাহিদা রয়েছে। তাই নিজেদের প্রয়োজন এবং বাজারের কথা বিবেচনা করে এসব জাতের ধান আবাদ করছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আমন মৌসুমে কৃষকদের জমি প্রস্তুত, উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরি ও ধান রোপণসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকদের দ্রুত কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সুষম সার ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের মতে, বাউফলের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে আমন ধানের আবাদ স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধান উৎপাদন হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ধানের সরবরাহও বাড়বে।
বর্ষার পানির ওপর নির্ভরশীল বাউফলের কৃষকেরা এখন তাকিয়ে আছেন অনুকূল আবহাওয়ার দিকে। মাঠে মাঠে ধানের চারা রোপণের দৃশ্য জানান দিচ্ছে—আমন মৌসুম পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া, ন্যায্যমূল্য ও উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকলে এবারের আমন মৌসুম তাঁদের মুখে হাসি ফুটাবে।









