পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গঠন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কেশবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সমাজসেবক মো. জসিমউদ্দীন জামসেদ।
এ বিষয়ে তিনি গত ২৪ আগস্ট ২০২৬, সোমবার বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে মো. জসিমউদ্দীন জামসেদ উল্লেখ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখা-১- স্মারক নং- ৩৭.০০.০০০০.০৭২.০০৩.২৪.৪২, তারিখ- ১৬ মার্চ ২০২৬ জারিকৃত পরিপত্র “খ” অনুযায়ী বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বিধান রয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, ওই পরিপত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি, শিক্ষায় আগ্রহী খ্যাতিমান ব্যক্তি বা সমাজসেবক এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্য থেকে তিনজন ব্যক্তির নাম ও জীবনবৃত্তান্তসহ প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর কথা রয়েছে।
কিন্তু অভিযোগকারীর অভিযোগ, ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান ওই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করে গণপূর্ত বিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সাখাওত হোসেনের নাম এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে গঠনের প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছেন এবং উহা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মো. সাখাওত হোসেন দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি কর্মচারী হওয়ায় তাকে এডহক কমিটির সভাপতি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো ও বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন সংশ্লিষ্ট পরিপত্রের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি পরিপত্রের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগপত্র ছাড়াও তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রধান শিক্ষক পূর্ববর্তী সময়ে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. জসিমউদ্দীন জামসেদ আরও বলেন, মো. সাখাওয়াত হোসেন একজন ২য় শ্রেণির কর্মচারী এবং গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী এবং তিনি (সাখাওয়াত হোসেন) প্রথম শ্রেণির কর্মচারী নন। তাই এডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে হলে তাকে সভাপতি করার প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হয়, সেটি তদন্তের মাধ্যমে এডহক কমিটির সভাপতি পদ বাতিল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা অভিযোগে ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি গঠনের তথ্য গোপনের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন অভিযোগটি যাচাই করে দেখলে প্রকৃত ঘটনা ও এডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা এবং ফ্যাসিস্ট অনুসারী প্রধান শিক্ষককেও আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগকারী মো. জসিমউদ্দীন জামসেদ তাঁর অভিযোগের সাথে এডহক কমিটির অবৈধ সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অনুসারী বলে আবেদনে সাথে বিভিন্ন প্রমাণ পত্র সংযুক্ত করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দাবী জানান।









