পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে সবুজ ঘাস খেয়ে বিষক্রিয়ায় তিনটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া তিনটি মহিষের মালিক হলেন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মো. রুহুল আমিন, মো. রফিজ মৃধা ও মো. সুমন মাঝি।
স্থানীয় মহিষ মালিকদের অভিযোগ, লালচরের সবুজ ঘাসে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করেছে। ওই ঘাস খাওয়ার পর একের পর এক মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। পরে তিনটি মহিষ মারা যায়। তবে ঘাসে আদৌ কী ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মহিষের মালিক মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ১৫–১৬ বছর ধরে কেশবপুরের লালচরে মহিষ নিয়ে আসি এবং এখানকার সবুজ ঘাস খাওয়াই। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার হঠাৎ করে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং তিনটি মারা গেছে। কে বা কারা ঘাসে বিষ প্রয়োগ করেছে, তা আমরা জানি না।’
আরেক মহিষ মালিক মো. রফিজ মৃধা বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা কেশবপুরের লালচরে মহিষ রেখে ঘাস খাওয়াই। কিন্তু এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার ঘাস খাওয়ার পর মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকটি মহিষ মারা গেছে এবং আরও অনেকগুলো অসুস্থ রয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, তাঁর ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থলে চলে আসি। সেখানে গিয়ে দেখি, আমার আসার আগেই তিনটি মহিষ মারা গেছে। বাকি অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। আশা করছি, চিকিৎসায় সেগুলো সুস্থ হয়ে উঠবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে মহিষগুলো অসুস্থ হয়েছে এবং এর মধ্যে তিনটি মারা গেছে। কী কারণে মহিষগুলো মারা গেছে, তা উদ্ঘাটনের জন্য আমরা মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাব। এরপরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।
বাউফল থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিষ মালিকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা লালচরে মহিষ চরিয়ে আসছেন। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তাই ঘাসে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর লালচর এলাকায় মহিষ মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অসুস্থ মহিষগুলোর চিকিৎসা চললেও নতুন করে আরও কোনো মহিষ অসুস্থ হয় কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন মালিকরা। একই সঙ্গে মারা যাওয়া মহিষগুলোর প্রকৃত মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে ঘাসে বিষ প্রয়োগের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









