পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবশেষে জেলেদের জালে ধরা পড়তে শুরু করেছে ইলিশ। তবে ইলিশের দেখা মিললেও ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে নতুন করে সংকটে পড়েছেন জেলে, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বরফ সংকটে সাগরে যেতে পারছেন না অনেক জেলে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাগরে ছোট আকারের বেশ কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। আকার ছোট হলেও ইলিশের দাম পাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বরফের অভাবে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের খাপড়াভাঙা নদীতে শতাধিক ছোট-বড় ট্রলার নোঙর করে আছে। কখন বরফ পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন জেলেরা।
জেলেরা জানান, টানা ২০-২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেলে একবার বরফ উৎপাদন করে দুই দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। অথচ বন্দরের ২৫-২৬টি বরফকলে বর্তমানে স্বাভাবিক উৎপাদনের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ বরফ উৎপাদন হচ্ছে।
চরগঙ্গা এলাকার একটি নাম্বারবিহীন ট্রলারের মাঝি দুলাল মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার ছোট আকারের ইলিশ প্রায় ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। কিন্তু বরফ না পাওয়ায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে ঘাটে বসে আছেন। একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন মাঝি আইয়ুব দফাদার ও ফারুক মাঝিও। তাঁদের ভাষ্য, এ বছর দীর্ঘ সময় সাগরে ইলিশ না পাওয়ার পর এখন কিছু মাছ ধরা পড়লেও বরফ সংকটে আবার সাগরে যেতে পারছেন না তারা।
মহিপুর বন্দর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা জানান, গত দুই দিনে অধিকাংশ আড়তে ৫০-৬০ মণ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০-২০০ মণ পর্যন্ত ইলিশ এসেছে। কিন্তু বরফ সংকটে মাছ ঠিকমতো সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরেও যেতে পারছেন না।
তিনি বলেন, সামনে ইলিশের মৌসুমের আর মাত্র এক মাসের মতো সময় রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিটি বড় ট্রলার ৪-৫টি ট্রিপ দিতে পারে। তাই বিশেষ ব্যবস্থায় কয়েকদিন টানা বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন আড়ত ও ট্রলার মালিকরা।
বরফকল মালিক ও ব্যবস্থাপকদের দাবি, টানা ২০-২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কাটানো সম্ভব। মহিপুর-আলীপুরের বরফকলগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ৬-৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন বরফকল মালিক, ট্রলার মালিক, আড়তদারসহ মৎস্যজীবীরা।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শত শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বেন এ খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও জেলেরা।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, জেলে ও মৎস্যজীবীদের বিদ্যুৎ সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।









