সাগরের অব্যাহত ভাঙনে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পরিধি ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এ বছর রীতিমতো ভাঙনের তাণ্ডব চলছে। গত এক মাসে সৈকতের অন্তত ৩০ ফুট প্রশস্ত এলাকা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন অস্বাভাবিক জোয়ারে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউয়ের তাণ্ডব চলছে। সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে দুই দিকে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন ধ্বংসের ছাপ। ভেঙে গেছে জাতীয় উদ্যানের অসংখ্য গাছপালা। পর্যটন পার্ক (ডিসি পার্ক), মসজিদ-মন্দির এলাকা, ইটবিছানো সড়ক, পর্যটক পুলিশ বক্সসহ আশপাশের ছোট-বড় স্থাপনা সাগরে বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জিরো পয়েন্টের সরদার মার্কেটের স্থাপনাগুলোর ওপর চার-পাঁচ ফুট উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ছে। স্থাপনাগুলোর বেড়াসহ অধিকাংশ স্ট্রাকচার ভেঙে গেছে। ফলে এসব এলাকা এখন পর্যটকদের জন্য ভয়ংকর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সৈকতের জিরো পয়েন্টের চায়ের দোকানি সোলায়মান জানান, গত সাত দিনে উত্তাল সাগরের ভয়াল ঢেউয়ে তার দোকানের জায়গাটিও সাগরগর্ভে চলে গেছে। এখন তিনি চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। তার দাবি, গত ২০ বছরে সাগরের এমন দীর্ঘস্থায়ী ঢেউয়ের তাণ্ডব তিনি দেখেননি। প্রতিদিন দুই দফা জোয়ারে ঢেউ যেন তাণ্ডব চালাচ্ছে। দীর্ঘ সৈকতজুড়ে এখন ধ্বংসের ছাপ।
তিনি বলেন, জাতীয় উদ্যানের গেটসহ বাউন্ডারি দেয়ালের ভগ্নাংশগুলো মৃত মানুষের কঙ্কালের মতো পড়ে আছে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় এখন পথ একটাই—স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন।”
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক জানান, সৈকতের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম জানান, জিরো পয়েন্টসহ আশপাশের কিছু এলাকায় ঢেউয়ের তীব্রতা ঠেকাতে জরুরি প্রকটেকশনের জন্য জিও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে।









