পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের কালীর চর মৌজায় সরকারি খাস জমির বন্দোবস্ত ও খতিয়ান সৃষ্টিতে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্ত কেস ও খতিয়ান বাতিলের দাবি জানিয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন গণেশ চন্দ্র শীল (৬৫)।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা আবেদনের স্মারক নম্বর ৫.১০.৭৮০০.০০০.০০৯.১৩.০০০২.২৬.৭৯, তারিখ ৭ জুলাই ২০২৬।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, কালীর চর মৌজার এসএ খতিয়ানভুক্ত জমির একটি অংশ ১৯৮৫ সালে বৈধ সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন গণেশ চন্দ্র শীল। এরপর থেকে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। জমিতে তার বসতবাড়ি, পুকুর, বাগান, মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল রয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
গণেশ চন্দ্র শীলের অভিযোগ, বন্দোবস্ত কেস নং-২২২ (গলা/২০০৬-২০০৭)-এর মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী হনুফা বেগমের নামে ১২ নম্বর রেজিস্টার অনুযায়ী ১, ৩৬০, ৩৬১ ও ২১৪ নম্বর দাগ থেকে এক একর জমি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের নথিতে ১, ৩৬০, ৩৬১ ও ২৩৪ নম্বর দাগ থেকে এক একর জমির তথ্য রয়েছে।
অন্যদিকে একই বন্দোবস্ত কেসের কবুলিয়াত ও ২১২ নম্বর খতিয়ানে ১, ৩৬০, ৩৬১ ও ২৭৪ নম্বর দাগ থেকে দেড় একর জমির উল্লেখ রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন নথিতে দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণে এমন অসঙ্গতিকে জালিয়াতির আলামত বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিতর্কিত জমির একটি অংশ প্রবাহমান খাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয় কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের প্রয়োজনে ওই খাল ব্যবহার করছেন। তবে বন্দোবস্তের ভিত্তিতে গলাচিপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৪৪১৩/২০২৩ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ২ মে ২০২৩ তারিখে আনোয়ার হোসেন ও হনুফা বেগম জমি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গণেশ চন্দ্র শীলের দাবি, জমির ক্রেতারা বর্তমানে প্রবাহমান খালের জায়গা দখলের পাশাপাশি তার বসতবাড়ির জমিও দখলের চেষ্টা করছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমি ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত নিয়েছি। সরকারি জমি বিক্রি করা যাবে না, সেটাও আমি জানি। কিন্তু পেটের দায়ে সরকারি জমি বিক্রি করে দিয়েছি।”
এ অবস্থায় অভিযোগটি তদন্ত করে সরকারি নথিতে থাকা অসঙ্গতি ও কথিত জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট বন্দোবস্ত কেস ও খতিয়ান বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণেশ চন্দ্র শীল।









