ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫ নম্বর কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি এবং বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে কীর্তিপাশা ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আনিসুজ্জামান চপল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিক, প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল হাসান।
সভায় ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের বাইরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়ার উপস্থিতি।
সভায় তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান, সাধারণ সম্পাদক মো. খোকন মল্লিকসহ দলের নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপির একটি পক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে কয়েক লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
সমালোচকদের দাবি, অতীতে আবদুর রহিম মিয়াকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সঙ্গে তার একাধিক ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের ভাষ্য, আবদুর রহিম মিয়া দলীয় প্রতীক নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহিম মিয়া বলেন, তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং ভবিষ্যতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তখন তিনি বাধ্য হয়েই সেসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম এজাজ হাসান বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে বিএনপিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই। ইউনিয়ন পরিষদে দলের সাংগঠনিক সভা হওয়ায় সৌজন্য সাক্ষাতের অংশ হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দলের নীতিমালার বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনাকে ঘিরে কীর্তিপাশার রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক অবস্থান ও মেরুকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতের স্থানীয় রাজনীতি এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পড়তে পারে।









