ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি ফাজিল মাদ্রাসায় ৫ আগস্ট ‘দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয় এবং উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাজেমহল ওবাইদিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় দিবসটি উপলক্ষে কোনো আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন বা রচনা প্রতিযোগিতাসহ কোনো কর্মসূচি পালন করা হয়নি। এমনকি ওই দিন প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাজেমহল ওবাইদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এ একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় দিবস ও নির্ধারিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান নির্দেশনা অমান্য করে থাকে, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দ্বিতীয় গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তারা ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালনের ক্ষেত্রে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমান দায়িত্ব রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার যে উদ্দেশ্য, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।









