দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল হোসেন। ৮৫ বছর বয়সেও থেমে নেই তাঁর মানবসেবা। এবার অসহায় মানুষের জন্য বৃদ্ধাশ্রম এবং পশু-পাখির জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে চান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও ট্রাস্ট পরিদর্শনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন এই সমাজকর্মী।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবাদ সম্মেলনে মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন অধ্যাপক আবুল হোসেন।
তিনি জানান, কুঁড়েঘর দিয়ে যাত্রা শুরু করা মানবকল্যাণ ট্রাস্ট বর্তমানে দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধীসহ প্রায় দেড় শতাধিক অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। গত ৩২ বছরে এ প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটিতে শতাধিক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন। �
Sun News 24×7 +1
আবুল হোসেন বলেন, “রাষ্ট্র, সরকার বা প্রশাসনের কাছে আমি অর্থ সহায়তা চাই না। আমি চাই সংগঠনটি বেঁচে থাকুক। এখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই, সেবাকেই আমরা সবচেয়ে বড় ধর্ম হিসেবে দেখি।”
আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রাস্ট প্রাঙ্গণে ফলজ ও বনজ গাছের বাগান করার পাশাপাশি পশু-পাখির জন্য নিরাপদ অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে চান। একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া, অসহায় ও গৃহহীন মানুষের জন্য বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের ইচ্ছা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা। একবারের জন্য হলেও তিনি যদি মানবকল্যাণ ট্রাস্ট পরিদর্শন করতেন, তাহলে জীবনের শেষ সময়ে নিজের কাজের একটি স্বীকৃতি পেতাম। তাঁর পরিদর্শন আমাদের আগামী দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার। উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য ড. আলমগীর হোসেন, সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, সংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল, সাবেক সভাপতি রুমি খন্দকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, মানবকল্যাণ ট্রাস্ট দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও আশ্রয়ের সুযোগ দিয়ে আসছে।









