ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকায় দশমিনা এক্সপ্রেসের একটি বাস দুর্ঘটনার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় জনগণ পরিবহনটির একটি বাস সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ করেন। সোমবার (৩ আগস্ট) বাউফল সাব-রেজিস্টার অফিস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, যাত্রীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনিরাপদ পরিবহন চলাচল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, একই মালিকানার পরিবহন অতীতে বিভিন্ন নামে সড়কে চলাচল করেছে। তার দাবি, আগে এটি চেয়ারম্যান পরিবহন নামে চলাচল করত, পরে ইসলাম পরিবহন এবং বর্তমানে দশমিনা এক্সপ্রেস নামে পরিচালিত হচ্ছে। বারবার দুর্ঘটনার পর নাম পরিবর্তন করলেও অনিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় স্থানীয়রা ঢাকা-বাউফল-দশমিনা-গলাচিপা এবং ঢাকা-বাউফল-কালিশুরী রুটে দশমিনা এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাউফল পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো অত্যন্ত সরু হওয়ায় প্রতিদিন যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। ভারী যানবাহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এ প্রেক্ষাপটে বাউফলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাগজীরপুল-কালাইয়া এবং কাগজীরপুল-নুরাইনপুর বাইপাস সড়ক দ্রুত নির্মাণের দাবি জানান তারা। তাদের মতে, এ দুটি বাইপাস সড়ক নির্মিত হলে পৌর শহরের ওপর যানবাহনের চাপ কমবে, যানজট নিরসন হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক ও সচেতন নাগরিকরাও দীর্ঘদিন ধরে বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও আধুনিক সড়ক অবকাঠামোর অভাবে বাউফলের মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা শেষে অবরুদ্ধ দশমিনা এক্সপ্রেসের বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বাউফলের যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এলাকাবাসী।









