পটুয়াখালীর কালাইয়া, কচুয়া, নিমদি, চরঈশান ও চর রায়সাহেব এলাকার নদ-নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিন-রাত অব্যাহতভাবে পরিচালিত এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীব্র নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কালাইয়া, কচুয়া, নিমদি, চরঈশান ও চর রায়সাহেব এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়ক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে এসব এলাকার বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনেই ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন চললেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। পরিবেশবাদীরাও মনে করছেন, এভাবে নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে তদন্তপূর্বক অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তারা নদী ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ নদীভাঙন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
মাননীয় এমপি মহোদয়, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।








