পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরের তারিখ—যেটি আগে হবে, ততদিন তিনি প্রো-ভিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। প্রয়োজনে চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ রয়েছে।
বগুড়ার সন্তান অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ২০০২ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৩ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০০৭ সালে পবিপ্রবির মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে বর্তমানে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
তিনি বর্তমানে ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলনবিলের মাটির শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে গবেষণা সম্পন্ন করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে তার বহু গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া চলনবিলের মাটির ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি গবেষণা গ্রন্থও রচনা করেছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। পরবর্তীতে পেশাজীবী সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইউট্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, পবিপ্রবি ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক, পবিপ্রবি সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একসময় চাকরিচ্যুতও হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
নতুন দায়িত্ব পেয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন,
“আলহামদুলিল্লাহ। এটি আমার জন্য যেমন বড় সম্মানের, তেমনি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ একটি পদ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনের মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা নিয়ে নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে চাই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ড. মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।









