পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মাছ ও মাংসের দাম আগে থেকেই ঊর্ধ্বমুখী থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শেষ ভরসা ছিল সবজি। কিন্তু বর্তমানে সবজির অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে। ফলে নিত্যদিনের সংসারের ব্যয় সামলাতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে দশটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজিই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৮০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, করলা ১১০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, টমেটো ১৭০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা, রেহা ৭০ টাকা, কচুর মুখি (ঘাটি) ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা ও মুলা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ও চাল কুমড়া ৭০ থেকে ২০০ টাকা এবং ছোট আকারের লাউ শাকের আটি/ডাটা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দক্ষিণ বাজারে বাজার করতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
মাছ-মাংসের বাজারে তো আগেই হাত দেওয়া যেত না, ভেবেছিলাম সবজি খেয়ে দিন পার করব। কিন্তু এখন শাক-সবজির যে দাম, তাতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এক কেজি কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকা আর করলা ১২০ টাকা হলে সাধারণ মানুষ খাবে কী? নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন।
সবজির অস্বাভাবিক দামের কারণ জানতে চাইলে দক্ষিণ বাজারের সবজি বিক্রেতা মোঃ কাবুল হোসেন জানান,
“আমাদের বেশি দামে কিনে এনে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। টানা বর্ষার কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। তাছাড়া পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের চড়া দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। আড়তে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আশা করছি দাম আবার কমে আসবে।
চলতি মৌসুমে সবজি উৎপাদনের চিত্র ও সরবরাহ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস
জানান,চলতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্থানীয়ভাবে সবজির উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা কম। তবে আমরা কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে এনে দ্রুত নতুন মৌসুমের সবজি চাষে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করছি। আশা করছি দ্রুতই সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সিন্ডিকেট প্রতিরোধ ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান জানান,
“বর্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। অসাধু ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেউ যেন সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সেজন্য আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম ফিরিয়ে আনতে দ্রুতই দক্ষিণ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।








