সুন্দরবন রক্ষা এবং উপকূলীয় মানুষের টেকসই জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক দিনব্যাপী নাগরিক সংলাপে বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের পরিবেশগত নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই সুন্দরবন সংরক্ষণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং বন ও পরিবেশবিরোধী যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। সুন্দরবনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল ৮ হাজার ২৭১ জন জেলের জন্য প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ৬৬২ টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মাছ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নিষিদ্ধ মৌসুমে বনে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীকে পুনরায় বনে অবমুক্ত করা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব কমাতে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব বেড়া নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার অন্যতম প্রাকৃতিক সুরক্ষাবর্ম। তিনি বলেন, বন দস্যু ও অসাধু চক্র দমনে সরকারের পরিচালিত ‘Restore Peace in Sundarban’ ও ‘Mangrove Shield’ অভিযানে ইতিবাচক ফল এসেছে। একই সঙ্গে Nature-based Solution, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৃক্ষরোপণ এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্দরবন সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাগেরহাট-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম বলেন, সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয়। তিনি প্রজনন মৌসুমে জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে বন সংরক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বনায়ন কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পারলেই উপকূল ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে।
এ সময় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা বন অপরাধের দ্রুত বিচার, বিশেষ বন আদালত গঠন এবং বননির্ভর মানুষের বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল নির্বাচনী ইশতেহারের পরিবেশগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অবৈধ শিকার, দূষণ রোধ এবং উপকূলীয় অঞ্চল রক্ষায় স্বতন্ত্র উপকূলীয় বোর্ড গঠনের জোরালো দাবি জানান বক্তারা।




