বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার শৌলখালী গ্রামে বজ্রপাতে দুই কৃষক ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বজ্রপাতে দুই সহোদর কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় জনজীবনে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের মনিরঞ্জন বাছাড়ের দুই ছেলে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০)। ঘটনার দিন দুপুরে তারা উপজেলার মহিষপুরা পুলিশ ক্যাম্পের পাশের মাঠে নিজেদের জমিতে কৃষিকাজে ব্যস্ত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হওয়ার পর হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হয়। কোনো সতর্ক সংকেত পাওয়ার আগেই বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাঠের খোলা জায়গায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের প্রাণহানি ঘটে। এতে পুরো এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মারা যান।
দুই সহোদরের অকালমৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে গ্রামীণ পর্যায়ে সচেতনতার অভাব এবং খোলা মাঠে কাজের সময় নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা প্রতিনিয়ত এমন প্রাণঘাতী পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, বিধান ও মানিক বাছাড় অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। পরিবারের হাল ধরতে তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করতেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। মাঠে কাজের সময় বজ্রপাত থেকে রক্ষার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আগাম সতর্কবার্তার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে তাদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান ইয়াদ নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে শোকার্ত পরিবারটি কিছুটা হলেও আর্থিক ও মানসিক সহায়তা পায়।
বজ্রপাত বাংলাদেশে একটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। দুই সহোদরের এই মৃত্যু আবারও প্রমাণ করল, বজ্রপাত থেকে কৃষকদের সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি কৃষকদের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তায় প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা।









