পটুয়াখালী দশমিমা উপজেলায় সভাপতির স্বামী কতৃক ধর্মীয় শিক্ষককে মার ধরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১১ ঘটিকার সময় উপজেলার বেতাগীসানকিপুর ইউনিয়নের বিবি আয়শা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিবি আয়শা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি মোসাঃ সেতারা বেগমের স্বামী বিদ্যালয়ে আসেন। উপজেলা ব্র্যাক এনজিও কতৃক শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং ছাত্র -ছাত্রীদের সমাবেশ ছিলো। সভাপতির সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় শেষে ঐ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুল সত্তারকে সভাপতির স্বামী বলেন আপনি আমাদের বিরোধিতা করেছেন। এই কথা বালায় ঐ শিক্ষকের সাতে কাথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে সভাপতির স্বামী তাকে মারধর করে স্কুল থেকে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মাওলানা আব্দুস সত্তার অসুস্থ হয়ে পরলে দশমিনা স্বাস্থা কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে দশমিনা থানায় ঐ সভাপতির স্বামী মোঃ জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন।
এ বিষয়ে বিবি আয়েশা নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সত্তার আজকের পত্রিকাকে জানান, আমি ১৯৯৭ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি এবং প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে আসছি। চলতি বছরের ২৮ জুন বিদ্যালয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় আমি অসুস্থ থাকায় ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। পরে বিদ্যালয়ে যোগদান করি। মঙ্গলবার সভা চলাকালে সভাপতির স্বামী জামাল মিয়া আমাকে বলেন, ‘আপনি আমাদের বিপক্ষে কাজ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি সবার সামনে আমাকে মারধর করেন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। প্রাথমিক দশমিনা থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, সভা চলাকালে জামাল মিয়া ও শিক্ষক আব্দুল সাত্তারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। তবে আমার সামনে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।
অভিযোগ অস্বীকার করে মো. জামাল মিয়া বলেন, আজ বিদ্যালয়ে ব্র্যাক এনজিও কতৃক শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের বিষয় একটি সভা ছিল। বৃষ্টির কারণে আমার স্ত্রী, যিনি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি, কিছুটা দেরি করছিলেন। তাই আমি আগে সেখানে যাই। আব্দুল সাত্তার সাহেবের সঙ্গে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। সভা শেষে বাইরে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আব্দস সত্তারের লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








