পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষকরা রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন। কম খরচে জৈব সার তৈরি করে কৃষি জমির উর্বরতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছেন তারা। স্থানীয়ভাবে তৈরি এ সার ব্যবহারে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফসলের ফলনও বাড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক পরিবারগুলো বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের জায়গায় মাটির চৌকি বা নির্দিষ্ট স্থানে গোবরসহ বিভিন্ন জৈব উপাদান ব্যবহার করে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার তৈরি করছেন। এ সার উৎপাদনে বাড়তি শ্রম ও খরচ তুলনামূলকভাবে কম। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দিন দিন কেঁচো সার তৈরিতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
কৃষকদের মতে, রাসায়নিক সার কিনতে প্রতিবছর বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। এর পরিবর্তে নিজেরাই কেঁচো সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ কমছে। পাশাপাশি মাটির গুণাগুণও ভালো থাকছে। বিশেষ করে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে এ সার ব্যবহার করছেন তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির জীববৈচিত্র্য ও গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কেঁচো সার ব্যবহারে মাটির গুণাগুণ অক্ষুণ্ন থাকে এবং কৃষি জমির উর্বরতা বাড়ে। ফলে কৃষকরা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবেও কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছেন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় রাসায়নিক সার কেনার ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমছে। কৃষকদের মধ্যে কেঁচো সারের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, কেঁচো সার কৃষি জমিতে ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফসলি জমিতে এ সার প্রয়োগ করলে ফলন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাসায়নিকমুক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব। কৃষকদের জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহারের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।









