পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভরা মৌসুমেও তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও অধিকাংশ জেলে খালি হাতে ফিরছেন তীরে। এর প্রভাব পড়েছে উপজেলার মাছের আড়ত ও বাজারগুলোতেও। ইলিশসহ অন্যান্য মাছের সংকটে ক্রেতা-বিক্রেতাহীন হয়ে পড়েছে বাজার।
জেলেরা জানান, বৈরী আবহাওয়া, ভারী বর্ষণ, নদীতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে নদীতে মাছ ধরা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই সারাদিন নদীতে কাটিয়েও দুই-চারটি মাছের বেশি পাচ্ছেন না। এতে নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না।
গত বছর এই সময়ে উপজেলার বিভিন্ন আড়ত ও বাজারে ইলিশ কেনাবেচায় সরগরম পরিবেশ থাকলেও এবার দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না।
উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার ১৭১ জন। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে চাল সহায়তা দিয়েছে। তবে বর্তমানে মাছ না পাওয়ায় অধিকাংশ জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। পাশাপাশি দাদন ও ঋণের কিস্তির চাপ তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
দক্ষিণ দাসপাড়া গ্রামের জেলে জাকির বলেন,
“সময়মতো কিস্তি দিতে না পারলে নতুন করে ঋণ পাওয়া যায় না। সুদ ও কিস্তির চাপে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামতে হচ্ছে।”
স্থানীয় জেলেরা সরকারের কাছে কিস্তি পরিশোধে সময়সীমা শিথিল এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয়দের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় ইলিশের প্রজনন ও বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো ড্রেজিং করা হলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।









