পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ডলফিনটি ইরাবতী প্রজাতির বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবার দুপুরে জোয়ারের পানির সঙ্গে সৈকতের জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ঝাউবাগান এলাকায় প্রায় ৮ ফুট দীর্ঘ ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মরদেহটি উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, ডলফিনটি কয়েকদিন আগেই মারা গেছে। দীর্ঘ সময় সাগরের পানিতে ভেসে থাকায় এর শরীরে পচন ধরেছে।
স্থানীয় পরিবেশ ও পর্যটনকর্মী কে.এম. বাচ্চু জানান, অতীতের তুলনায় ডলফিন মৃত্যুর ঘটনা কিছুটা কমলেও মাঝেমধ্যে এখনও মৃত ডলফিন ভেসে আসছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ডলফিনটির শরীরে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের ধাক্কা, মাছ ধরার জালে আটকে পড়া অথবা কোনো মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া নদী ও মোহনায় শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক ও তেল দূষণ ডলফিনের জন্য বড় হুমকি। তাই ডলফিনের অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে ডলফিন সংরক্ষণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও ডলফিন মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাচ্ছে না। এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে যথাযথ নিয়ম মেনে সৈকত এলাকাতেই সেটি মাটিচাপা দেওয়া হয়।








