
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বিভিন্ন জাতের গাছ কর্তন বসতবাড়িতে হামলা,ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছে।
গত ১ জুলাই ২০২৬ইং দুপুর আনুমানিক ১:৩০ সময় বাকেরগঞ্জ থানাধীন ১২নং রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী মোঃ হারুন গাজী (৬৫) বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় ০২জুলাই ২০২৬ইং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হারুন গাজীর সাথে তার একই বাড়ির বাসিন্দা মোঃ কাওসার গাজী(৩২) পিতা-মোঃ শাহজাহান গাজী , মোঃ মেহেদী(২২)পিতা- সোবাহান গাজী, মোঃ সাহাদৎ গাজী(৩৫) পিতা-মোঃ শাহজাহান গাজী, মোঃ শাহজাহান গাজী(৬৫) পিতা-মৃত ধলাই গাজী ও মোসাঃ আসমা বেগম(৩৭) স্বামী- মোঃ সরাব উদ্দিন কডা গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।এ নিয়ে গত ১ জুলাই দুপুরে বিবাদীরা বেআইনিভাবে মোঃ হারুন গাজীর বসতবাড়ির সীমানার বেড়া ভেঙে ফেলে বিভিন্ন জাতের গাছ কেটে ফেলেছে । এতে মোঃ হারুন গাজীর স্ত্রী ছকিনা বেগম (৫৫) বাধা দিলে বিবাদীরা তাকে লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয় এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বিবাদীরা ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ছকিনা বেগমকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে, এ সময় বিবাদী কাওসার গাজী হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে ছকিনা বেগমের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। মারধরের সময় বিবাদী মেহেদী গাজী ভুক্তভোগী সকিনা বেগমকে চেপে ধরে কান থেকে আনুমানিক ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের কানেবালা (মূল্য প্রায় ১,২৫,০০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয় এবং বিবাদী সাহাদৎ গাজী তার পরিধেয় বস্ত্র টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি ঘটায়।
ছকিনা বেগমের চিৎকার শুনে স্বামী মোঃ হারুন গাজী এগিয়ে এলে বিবাদীরা তাকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়েও ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে, এ সময় ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাক্ষীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে চলে যায়।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা আহত ছকিনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বাদী হারুন গাজী স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানা গেছে।


