তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের তথ্য ও জনসেবা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব করতে প্রতিটি বিভাগে সাততলা বিশিষ্ট আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ সুবিধা দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। ইতোমধ্যে ২৬টি জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বরিশাল নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাকাঠী-কাশিপুর এলাকায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের আয়োজনে বিভাগীয় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের মূল লক্ষ্য শুধু একটি আধুনিক ভবন তৈরি করা নয়; বরং এর মাধ্যমে জনগণকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য ও সেবা প্রদান করা। আমরা আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্সের ভেলু বৈশ্বিক পর্যায়ে নিতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, একটি কম্পিউটার, স্মার্টফোন কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিপণ্যের ক্ষেত্রে শুধু এর দামই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এসব প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন কাজে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে, তার ওপরই এর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে। একইভাবে তথ্য কমপ্লেক্সের সফলতাও নির্ভর করবে এখান থেকে জনগণ কতটা আধুনিক ও কার্যকর সেবা গ্রহণ করতে পারছে তার ওপর।
তথ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবার পাশাপাশি উন্নতমানের সিনেমা প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রচলিত সিনেমা হলের তুলনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দর্শকদের উন্নত অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সেখানে থ্রিডি, ফোরডিসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রতিটি বিভাগে একটি তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণে সরকারের আনুমানিক ১৮ থেকে ১৯ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। উন্নত প্রযুক্তি, আধুনিক তথ্যব্যবস্থা এবং জনসেবার সুযোগ সৃষ্টি করতেই এ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়েও এসব সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর বিস্তৃতি ঘটলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পাবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুল জলিল, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রেঞ্জ ডিআইজি জুলফিকার আলী হায়দার ও পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান। এ সময় বরিশাল গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেদ হোসাইনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









