মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেনকে (৪০) বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে শনিবার রাতে কলাপাড়া পৌরশহরের সদররোড এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনি একটি মোবাইল সার্ভিসিংএর দোকানে বসেছিলেন। এসময় মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ টেনেহিচড়ে দোকান থেকে রাস্তায় ফেলে কিলঘুষি, লাথির আঘাতে মারাত্মক জখম করেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা-জখম হয়। বুকের বাম পাজরে ও হাটুতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
আহত মোয়াজ্জেম জানান, অতি সম্প্রতি বাদুরতলীতে কলাপাড়া পৌর শাখা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদকের বাসায় ঢুকে হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বেল্লালসহ তার সহকর্মীরা এই হামলা চালায়। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মোয়াজ্জেমকে মারধর করা হয়।
আহত মোয়াজ্জেম হোসেনের শারিরীক অবস্থা দেখতে দ্রুত কলাপাড়া হাসপাতালে ছুটে যান কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী, কলাপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি নেছারউদ্দিন আহমেদ টিপুসহ নেতৃবৃন্দ। হাজী হুমায়ুন সিকদার তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনার নিন্দা জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা বেল্লাল হোসেন গণমাধ্যম কে জানান, এ ঘটনায় তার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই। তাকে অযথা জড়ানো হয়েছে।
দৈনিক আজকের পত্রিকার কলাপাড়া প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম হোসেন কাঠালপাড়া নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও কলাপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।









