২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’। দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে এবারের বাজেটে এই খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে সৃজনশীল অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা এই খাতে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেধাভিত্তিক এই শিল্প থেকে দেশের জিডিপিতে অবদান ১.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং আগামী দিনে প্রায় ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এবারের বাজেটে সৃজনশীল খাতের উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ধরনের কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কনটেন্ট ক্রিয়েশন বা কনটেন্ট তৈরি থেকে অর্জিত সমস্ত আয়কে আয়কর মুক্ত রাখার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া তরুণদের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও আধুনিক কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করতে উচ্চ প্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও এর যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং বাদ্যযন্ত্রের ওপর থেকে রেগুলেটরি ডিউটি বা নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে দেশীয় মেধার ব্র্যান্ডিং বাড়াতে ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ (Created in Bangladesh) নামে একটি নতুন জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সৃজনশীল পণ্য ও সেবার অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বাজেটে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। পূর্বাচলে ১৬০ একর জমির ওপর পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘সেন্ট্রাল ক্রিয়েটিভ হাব’ বা কেন্দ্রীয় সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এবং শিল্পকলা ও শিশু একাডেমিতে আঞ্চলিক ক্রিয়েটিভ হাব স্থাপন করা হবে, যেখানে থিয়েটার, সিনেপ্লেক্স ও বইপড়াসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সুবিধা থাকবে। গ্রামীণ কারুশিল্পীদের বৈশ্বিক বাজারে যুক্ত করতে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় জামদানি, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, মৃৎশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের আধুনিক ডিজাইন ও বিপণনে জোর দেওয়া হচ্ছে। মেধা ও প্রযুক্তির এই যুগান্তকারী মেলবন্ধন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।








