পটুয়াখালীতে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ট্রলার চালক দুলাল গাজী (৬৫) এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল ১১ টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের মাটিভাঙ্গা গ্রামের আবাসন এলাকায় এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় দুপুর ১ টার দিকে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
ভূক্তভোগী স্কুল ছাত্রী স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত দুলাল গাজী তার প্রতিবেশী ও একই এলাকার মৃত হাসেম গাজীর ছেলে। সে পেশায় একজন ট্রলার চালক।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘‘স্কুলে যাওয়ার জন্য বান্ধবীকে ডাকতে যাচ্ছিলেন ওই স্কুল ছাত্রী। এসময় তাকে মজা খাওয়ানোর কথা বলে ঘরের মধ্যে ডেকে নিয়ে যান স্থানীয় দুলাল গাজী। সেখানেই মুখ বেধে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর কান্নাকাটি শুরু করে ওই ছাত্রী। এরপরে স্থানীয়রা জানতে চাইলে তাদের কাছে সব কিছু খুলে বলে সে। পরে অভিযুক্ত দুলালকে স্থানীয় বাজারের একটি ফার্মেসির মধ্যে আটক করে রাখেন স্থানীয়রা। এরপর পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাকে থানায় নিয়ে যায়।’’
ভূক্তভোগী স্কুল ছাত্রী বলেন, ‘‘আমি স্কুলে যাওয়ার জন্য আমার বান্ধবীকে ডাকতে যাওয়ার পথে দুলাল গাজী মজা খাওয়ানোর কথা বলে আমাকে তার বোনের বাসার মধ্যে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আমার মুখ বেধে আমার প্যান্ট খুলে ফেলে, এরপর তারও জামাকাপড় খুলে ফেলে। আমি ডাকাডাকি করতে চাইলে সে আমাকে ভয় দেখায় যে পুলিশে ধরাইয়া দিবে। এরপর আমারে সে নির্যাতন করছে। সে এর আগেও আমার লগে এমন করছে। আরও মেয়েদের সাথে এমন করছে। আমি তার ফাঁসি চাই।’’
ভূক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মামা মো. স্বপন বলেন, ‘‘আমার ভাগ্নিকে কান্না করতে দেখে জিজ্ঞেস করলে সে বলে তার সাথে দুলাল খারাপ কাজ করছে। এরপর আমরা বাজারে গিয়া দুলালকে দেখতে পেয়ে আটকাই। ওর লুঙ্গিতে রক্তের দাগ লেগে আছে। আমরা এর বিচার চাই।’’
স্কুল ছাত্রীর মা রুজিনা বেগম বলেন, ‘‘আমি আমার বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। এসে শুনি একটা মেয়ে ধর্ষণের শিকার হইছে। কিন্তু আমি বুঝতে পারি নাই যে ওটা আমার মেয়েই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’’
স্থানীয় বাসিন্দা ছবিতা রানী বলেন, ‘‘আমরা ওরে কান্না করতে দেখে ওখানে যাই। তারপর আমাদের সাথে সবকিছু খুলে বলছে। দুলাল গাজীর এমনিতেই নজর ভালোনা। এর আগে সে আমাদের দিকেও কু-দৃষ্টিতে তাকাইছে। আমরা তার বিচার চাই।’’
তবে ঘটনার দায় অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দুলাল গাজী ও তার পরিবার।
দুলাল গাজীর স্ত্রী বলেন, ‘‘এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এই ঘরের মধ্যেই ছিলাম। আপনারাই বলেন একজন স্ত্রী ঘরে থাকা অবস্থায় কি তার স্বামী এমন কাজ করতে পারে? আমি কোরআন ছুয়েও বলতে পারি এ ঘটনা মিথ্যা।’’
দুলালের ছেলে মো. সুজন বলেন, ‘‘আমার বাবা এমন কাজ করেনাই। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। একজন বৃদ্ধ মানুষকে বাজারে বসে মারধর করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’’
অভিযুক্ত দুলাল গাজী বলেন, ‘‘এখানকার মানুষের সাথে আমার সাথে বিভিন্ন সময়ে নানা দ্বন্দ্ব ছিল। এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ওই মেয়েকে ডাকিনাই, ওরে আজ দেখিই নাই। আমি সঠিক বিচার চাই।’’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘ঘটনা শুনেই সাথে সাথে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’









