গলাচিপা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৃথক দুটি ঘটনায় এক শিশু ও এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া এলাকার একটি ডোবা থেকে এক শিশুর এবং পৌর শহরের শান্তিবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে এক তরুণীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন- বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মনির খানের ছেলে মাঈনুল (৮) এবং পৌর শহরের কলাবাগান এলাকার আলমগীর শিকদারের মেয়ে লামিয়া আক্তার সুমাইয়া (২০)।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের বাঁশবাড়িয়া চৌরাস্তার একটি মাদ্রাসার মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় শিশু মাঈনুল। রাতে সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে চৌরাস্তার পাশের একটি ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অন্য ঘটনায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়া আক্তার সুমাইয়া নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও নিহতের বান্ধবী সূত্রে জানা গেছে, লামিয়া মূলত ঢাকায় থাকতেন। কয়েক দিন আগে তিনি গলাচিপায় এসে ‘কথা’ নামের এক বান্ধবীর সাথে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিলেন। লামিয়া ও কথা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতেন।
ঘটনার দিন সকালে কথা নামের ওই বান্ধবীই ফোন করে অন্য এক বান্ধবী সানজিদাকে লামিয়ার বাসায় যেতে বলেন। সানজিদা বাসায় গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে লামিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করেন। পরে স্থানীয়রা এসে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, শিশু মাঈনুল ও তরুণী লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









