মোঃ মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা: পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটায় পাওনা টাকা পরিশোধ না করে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে জেসমিন আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সবুজ মোল্লা প্রতিকার চেয়ে গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্থানীয় লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সবুজ মোল্লা দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে আলীপুর কাঁচাবাজারে ক্ষুদ্র মাছের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে জেসমিন আক্তারের বড় ছেলে আরিফ নিয়মিত তার কাছ থেকে মাছ ক্রয় করতেন। একপর্যায়ে উভয় পরিবারের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ও যাতায়াত গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রায় দেড় বছর আগে জেসমিন আক্তার তার ছোট ছেলে রিফাতকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে সবুজ মোল্লার কাছে দুই লাখ টাকা ঋণ চান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি নগদ এক লাখ ৯০ হাজার টাকা জেসমিন আক্তারকে প্রদান করেন। তিন থেকে চার মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে ওই লেনদেন সম্পন্ন হয়। ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে জেসমিন আক্তার কুয়াকাটার ন্যাশনাল ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবুজ মোল্লার অভিযোগ, নির্ধারিত সময় পার হলেও টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা শুরু হয়। একপর্যায়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে কয়েকজন লোক দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে গুরুতর আহত হলে চিকিৎসার জন্য বরিশালে যান। সেসময় জেসমিন আক্তার ও তার ছেলে রিফাত তাকে দেখতে গিয়ে তার ব্যাগে থাকা চেক ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে পাওনা টাকা চাইলে নানা টালবাহানা শুরু হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং উল্টো তার বিরুদ্ধেই অর্থ পাওনার দাবি তোলা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হলেও জেসমিন আক্তার সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হননি। বরং সামাজিক ও আইনি হয়রানির উদ্দেশ্যে তিনি বাদী হয়ে মোকাম কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর- ২১৬/২৬।
এ বিষয়ে জেসমিন আক্তারের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেসমিন আক্তারকে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তবে তিনি কোনো সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হননি।”
এদিকে ভুক্তভোগী মো. সবুজ মোল্লা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, তিনি যেন মিথ্যা মামলা থেকে ন্যায়বিচার পান এবং তার পাওনা টাকা উদ্ধার করতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।









