বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে এক বিশেষ অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা ‘ব্র্যাক’ এর জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের উদ্যোগে “নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ” শীর্ষক এই সংলাপটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর মোঃ নেফাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রওজাতুন জান্নাত, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবুল কালাম, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রামের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (জেন্ডার মেইনস্ট্রেমিং) দেবাশীষ হালদার।
এই অ্যাডভোকেসি ডায়ালগে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সভায় স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য সেবিকা, স্বপ্ন সারথী দলের কিশোর-কিশোরী সদস্য, ট্রাক ড্রাইভার, অটো চালক, মক্তবের শিক্ষক, মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম, ব্র্যাকের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রতিনিধিবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক, অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডায়ালগে রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) সহিংসতার জরিপ, জেলার সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনী সুরক্ষা কর্মসূচির তথ্য, সরকারি সেবা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং জেলার সহায়ক শক্তি নিয়ে বিস্তারিত সুপারিশ ও আলোচনা করা হয়।
পরবর্তীতে ব্র্যাক ডিস্ট্রিক কো-অর্ডিনেটর মোঃ নেফাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় একটি মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বপ্ন সারথী দলের কিশোর-কিশোরী, ইমাম, মাদ্রাসা ও মক্তবের শিক্ষক এবং এনজিও প্রতিনিধিরা নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারি চ্যালেঞ্জ ও উদ্যোগসমূহ নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
আলোচকগণ বলেন, ব্র্যাক প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকেই নারীর ক্ষমতায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি ভুক্তভোগীদের আইনী সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সিলিং ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ব্র্যাকের সহায়তায় অনেক নারী ও কিশোরী সহিংসতা থেকে রক্ষা পেয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ”আমাদের দেশে ৯৮% মুসলমানের বসবাস এবং ইসলাম ধর্মে নারীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে। সমাজের প্রতি আমাদের সবারই কম-বেশি দায়বদ্ধতা রয়েছে। তবে ইমাম, কাজী এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের দায়িত্ব আরও অনেক বেশি, কারণ সমাজের মানুষ তাদের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে। তারা যদি তাদের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নারীর প্রতি নির্যাতন নির্মূলে ভূমিকা রাখেন, তবে সমাজ দ্রুত পরিবর্তিত হবে।”
তিনি মসজিদের জুমার নামাজের খুতবায় নারী অধিকার ও সহিংসতা রোধে সচেতনতা সৃষ্টির আহ্বান জানান এবং বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
ডায়ালগের সমাপনী পর্বে উপস্থিত সমাজের সকল স্তরের অংশগ্রহণকারীগণ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধে যার যার অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।









