মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্যের লক্ষ্যে একটি দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি অতি গোপনে গঠন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ডালবুগঞ্জ নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নীতিমালা অনুসরণ না করেই এই কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমন কি ওই মাদরাসার তিনটি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করে তা বৈধ করতেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে সুপার আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে।
এনিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতার ছেলে কে এম মনিরুজ্জামান।
কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দেওয়া অভিযোগে জানা যায়, এমপিও ভুক্ত নুরপুর দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল শূন্য পদে নিয়োগ বাণিজ্য করতে ৩০ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। আর তাই অনিয়মের মধ্য দিয়ে রেজুলেশনে তফসিল দেখিয়ে অতি গোপনীয়ভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন তিনি। এবং বিষয়টি ঢাকার একটি অপরিচিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে গোপন রাখা হয়।
মনিরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার নিজ বাড়ির প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠাতার ছেলে হিসেবে অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত সুপারের অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়টি তাকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে জানতে সুপার আউয়ালকে একাধিকবার ফোন করেছেন। কিন্তু কোন সদুত্তর না দিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দেন। এমনকি মাসে মাত্র একদিন মাদরাসায় এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে যান তিনি।
এছাড়া তার বিষয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদানের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক পাঠদানে না আসায় অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিদিন দুপুরের মধ্যে ক্লাস ছুটি দিয়ে বাড়ি চলে যান। ফলে দিন দিন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নুরপুর দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার ছেলে কে এম মনিরুজ্জামান জানান, ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে সুপার আউয়াল ৩০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন ওই টাকা বৈধ করতে গোপনীয়ভাবে বন্ধের মধ্যে মনগড়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন। তাই এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
নুরপুর দাখিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল আউয়াল বলেন, আমি কোন অনিয়ম দুর্নীতি করিনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসারে সবকিছু করা হয়েছে। মাদরাসায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক এবং ক্লার্ক পদ শুন্য থাকায় নিয়োগের বিষয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। আমি কোন টাকা নেইনি। অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
কলাপাড়া উজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরাম হোসেন খাঁন গণমাধ্যম কে বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









