পটুয়াখালীর দশমিনায় মোঃ রাকিব হোসেন(৩০) যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধির গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্নহত্যার ঘটনা ঘটে।
রবিবার সকাল ৫ ঘটিকার সময় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত. মোঃ রাকিব হোসাইন গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ০৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব চরবিশ্বাস গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার মেলকারের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মা মারা যাবার পর থেকে দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে নানা মৃত. নুর হোসেন প্যাদা বাড়ি ছোট থেকে বড় হয়। চার ভাই বোনের মধ্যে মোঃ রাকিব হোসাইন ও বোন জান্নাতুল ফেরদৌস এলো নানা বাড়ি থেকে বাড় হয়। অন্য দুই ভাই বোন ঢাকায় থাকতো। রাজনৈতিক ভাবে সরকারি আবদুর রশি তালুকদার কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। রাকিব দশমিনা সদরে মানিকমিয়া চত্বরে একাটি ভবনের তিনতলায় একা থাকতো। গত শনিবার দিবাগত রাত ৪ ঘটিকার সময় তার ভেরিফাই এফবি আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে আত্মহত্যার জন্য গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। তার নিজেস্ব ভেরিফাই এফবি আইডিতে লেখেন ” একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে, যুদ্ধ করতে করতে আমি আজ ক্লান্ত। আফসোস এটাই যে, রক্তের
সম্পর্কে মানুষ গুলো আমাকে চিনতে পারলোনা, দুনিয়ার মায়া এক দিনের বা অল্প কষ্টে কেহ ছাড়েনা।আমার মৃত্যুর পরে আমার মায়ের পাশে দাফন করা হয়। শাহাজান মােলকার(চাচা) এর কোন পরিবারের লোক আমার মুখ না দেখে। আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ী নহে। ছোট বেলা থেকে পরিবার ছাড়া বড় হয়েছি, রক্তের মানুষ গুলোর কাছ থেকে কখনো কিছুই পাইনি সুধু আবহেলা ছাড়া। রক্তের সম্পর্ক নাই এমন লোকদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছি তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ ” এই স্টাটাস এফবিতে পোস্ট করার পর তার ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস এলো বিষয়টি দেখে রাকিব হোসেন এর কয়েজন বন্ধুকে জানিয়ে তাদের নিয়ে রাকিব হোসেনের ভাড়া বসায় গিয়ে রাকিব বলে ডাক দিলে তিনতলা থেকে চাবি ফেলে। পরে বাসায় প্রবেশ করলে রাকিব হোসেন বলেন আমাকে বাঁচাতে পারবিনা। পরে দশমিনা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশংকা জনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শে-রে-ই বাংলা হাসপাতালে প্রেরেন করে। হাসপাতালে পৌছানোর আগেই মারা যান।
দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর চিকিৎসক ডাঃ রাহুল বিন হালিম আজকের পত্রিকাকে জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৪ ঘটিকার সময় রাকিব হোসেন নামের একজন রোগী আসে। জানতে পারি চারটি গ্যাস ট্যাবলেট খেয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল হাসপাতালে প্রেরন করা হয়।
নিহতের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস এলো জানান, আমরা চার ভাই বোন মা মারা যাবার পর আমি ও রাকিব দশমিনায় নানা বাড়ি থেকেই বড় হই। আমার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহেসনাবাদ গ্রামে বিবাহ হয়। রাকিব মানিকমিয়া চত্বরে একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতো।
রাকিব দশমিনা বাজারে একটি ঔষধের ফার্মেসী চালায় এর সাথে জাতীয় দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে। শনিবার দিবাগত রাত চার ঘটিকার সময় ওর ভেরিফাই এফবিতে পোস্ট দেখে আমি ভয়পাই সাথে সাথে ওর কয়েকজন বন্ধুদের নিয়ে ওর ভাড়া বাসায় যাই। গিয়ে ডাক দিলে জানালা দিয়ে চাবি দেয়। দেখি কথায় এলোমেলো বলছে গ্যাস ট্যবলেট খাইছি। তখোন হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার বরিশাল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠালে বাউফল উপজেলার বগা ফেরি ঘাটের কাছাকাছি মারা যায়।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয় শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় দাফনের জন্য মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর কারা হয়েছে।
দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে প্রথম জানাজায় গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক(এমপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, দশমিনা প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোটার্স ইউনিটির সদস্য ও স্থানীয় ধর্মপ্রান মুসল্লীগন অংশগ্রহন করে শোক প্রকাশক করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
দ্বিতীয় জানাজা নামাজ আজ রবিবার বিকেলে চরবিশ্বাস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে।









