পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের মধ্য চরমোন্তাজ ও দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া চরমোন্তাজ স্লুইস খালের ওপর ঝুুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা লোহার (আয়রন) সেতুটি ভেঙে পড়েছে। রোববার দুপুরে সেতুটি দুমড়েমুচড়ে খালে পড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ফলে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এরপরও দুই গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করতেন। দুর্ঘটনা এড়াতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেতুর বিভিন্ন অংশে রশি বেঁধে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করেছিলেন।
রোববার বিকেলে হঠাৎ সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এ সময় সেতুর ওপর থাকা পথচারী ইব্রাহিম (৩৫) আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, সেতুটি প্রায় ২০ বছর আগে নির্মিত হয়। গত ৫-৬ বছর ধরে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়। একেবারে চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে তিন বছর ধরে।
মধ্য চরমোন্তাজ গ্রামের জাহাঙ্গীর মাতুব্বর বলেন, অনেক বছর ধরে সেতুটি ঝুকিপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত সেতুটি ভেঙেই পড়ল। এখন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের খুব কষ্ট হবে। তাই এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মানের দাবি সরকারের কাছে।
দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের মামুন বলেন, এই সেতু না থাকলে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এখন বাজার, মসজিদ বা জরুরি কাজে যেতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের অন্য সেতু ব্যবহার করতে হবে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
ওই গ্রামের কুদ্দুস মিয়া বলেন, দুই গ্রামের মানুষের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সেতু। শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগীসহ সবাই এই পথ ব্যবহার করে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।
এলাকাবাসী জানান, সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় দুই গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও অসুস্থ রোগীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
জানতে চাইলে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আবু ইউসুফ মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ার বিষয়টি আমি শুনেছি।ভেঙে পড়া সেতুটি কোন দপ্তরের নির্মিত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অজিত চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এই সেতুটি তাদের দপ্তরের নয় বলে নিশ্চিত করেন।









