১১ দলীয় জোটের পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘চাঁদাবাজি আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। আমরা এ দেশে আর মামলা বাণিজ্য করতে দেব না, সন্ত্রাসী ও ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করব। এবং যারা এ দেশ থেকে অর্থ পাচার করেছে, আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের পেটের ভেতর থেকে সেই অর্থ বের করে আনব।’
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০টায় বাউফল উপজেলার ঐতিহাসিক পাবলিক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময়ে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ যে আইনে শাস্তি পায়, সেই একই আইনে দেশের প্রধানমন্ত্রীও অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের সুযোগ দেন, তাহলে উন্নয়নের জন্য আপনাদের আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা নিজেরাই আপনাদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে কাজ করব।’
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম শিক্ষার্থীদের নেতা নয়, প্রতিনিধি হবো। একজন বোনের ভাই, ছোট ভাইয়ের অভিভাবক হবো। আমরা আমাদের কথা রাখার চেষ্টা করছি এবং সকল সমস্যা সমাধানে অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিএনপির নেতা আমাদের বড় ভাই অনেক কষ্ট করে একবার প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে কথা বললেও ভেতরে ভেতরে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমরা বলব, ভুল রাজনীতি করবেন না। কারণ এই ভুল রাজনীতির কারণেই আপনাদের কর্মী-সমর্থকরা আজ ১১ দলীয় জোটের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। এখনও সময় আছে, আপনারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিন।’
এসময়ে সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি দলের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য নানা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করছে। আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি এবং সকল ষড়যন্ত্রকারীদের এই স্বাধীন বাংলায় উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।’
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, পটুয়াখালী-১ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী ডা. আব্দুল ওহাব মিনার, পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, পটুয়াখালী-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ডা. জহির উদ্দিন প্রমুখ।
সকাল থেকে বাউফল পাবলিক মাঠ ও আশপাশে হাজার হাজার নারী–পুরুষ নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত হয়ে জনসভাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে যোগ দেন।
জনসভা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করেন এবং আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।









