কলাপাড়া প্রতিনিধি: কলাপাড়া-কুয়াকাটা ২২ কিলোমিটার সড়কের ১১ কিলোমিটার সংস্কারের পরে প্রস্থ কমে গেছে ৪-৬ ফুট। ফলে ওই ১১ কিলোমিটার পথে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলে অহরহ দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাখিমারা থেকে মহিপুর খাপড়াভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের এমন অবস্থায় এখন বাসসহ সকল যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চরম ঝুকিতে পড়ছে।
বাস-অটো চালক ও স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি প্রস্থ ছিল প্রায় ২৪ ফুট। কিন্তু গেল বছর সংস্কারকালে এই ১১ কিলোমিটার সর্বোচ্চ ১৮-১৯ ফুট করা হয়েছে। কলাপাড়া থেকে পাখিমারা কিংবা আলীপুর টোল পয়েন্ট থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের পাশে এখনো ২৩-২৪ ফুট প্রস্থ রয়েছে। অথচ এই ১১ কিলোমিটার প্রস্থ কমানো হয়েছে।
২০০৯-২০১৪ অর্থবছরে এই সড়কের পাখিমারা থেকে খাপড়াভাঙ্গা সেতু পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ করে ‘রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন ২০ কোটি টাকা ব্যয়-বরাদ্দ ছিল ওই অংশের জন্য। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আট কোটি টাকার বিল আটকে দেয়। এর প্রেক্ষিতে রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চুড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন।
আদালত মামলার প্রেক্ষিতে ১১ কিমি সড়কের ওপর সংষ্কার কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে রাস্তাটির সংষ্কার কাজ ঝুলে যায়। ১০টি বছরে খানাখন্দে একাকার থাকে ওই ১১ কিলোমিটার অংশ। অবশেষে গত বছর আদালত ওই ১১কিলোমিটার অংশের সংস্কার কাজের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন।
এর পরে সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়। কিন্তু ২৪ ফুট প্রস্থ সড়কটির সংস্কার করতে গিয়ে প্রস্থ কমিয়ে করা ১৮-১৯ ফুট। এখন সড়কটির ১১ কিলোমিটার অংশের ৫-৬ ফুট প্রস্থ কমে গেছে । ফলে দূরপাল্লার ঢাকা-কুয়াকাটাগামী প্রতিদিন শত শত পরিবহন ও স্থানীয় রুটের বাস ওই ১১ কিলোমিটার অংশে পাশাপাশি ক্রস করতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছে। আবার অটোবাইক, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি চলাচলের সময় বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগছে। ঘটছে মারাত্মক দূর্ঘটনা। গত এক মাসে এই সড়কে তিনটি দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসী’র সভাপতি সংগঠক নাজমুস সাকিব জানান, তিনি মেপে দেখেছেন পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত সংস্কারের পরে সড়কটির এখন প্রস্থ ১৮-১৯ ফুট। আর কলাপাড়া থেকে পাখিমারা অংশের প্রস্থ ২৩-২৪ ফুট। ৫-৬ ফুট প্রস্থ রিপেয়ারের সময় কম করা হয়েছে।
বাসচালক আলআমিন জানান, কলাপাড়া থেকে পাখিমারা পর্যন্ত তারা স্বস্তিতে গাড়ি চালিয়ে এসে পাখিমারা থেকে মহিপুর বন্দর পর্যন্ত যেতে সমস্যার মুখোমুখি পড়েন। দুটো গাড়ি চলাচল করতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে হয়। অটোচালক বশির উদ্দিন জানান, পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামত করার সময় ৫-৬ ফুট পাশে কম করা হয়েছে। ফলে প্রায় সময় যাত্রী নিয়ে চলাচলে সমস্যা হয়। বহু সময় বাসের পাশে সাইড দিতে গিয়ে উল্টে রাস্তার বাইরে পড়তে হয়।
এব্যাপারে কথা বলতে সড়ক ও জনপথ পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার মোবাইল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাউছার হামিদ জানান, তিনি বিষয়টি পটুয়াখালী জেলার মাসিক সভায় উপস্থাপন করবেন।









