মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর নির্মাণে উচ্ছেদ হওয়া ছ-আনিপাড়ার ৬টি রাখাইন পরিবারকে সাড়ে তিন বছরেও পুনর্বাসন করা হয়নি। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্যদেরকে পুনর্বাসনের আগ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তাও বন্ধ হয়ে গেছে। চরম মানবেতরভাবে বিভিন্ন রাখাইন পল্লীসহ এখন স্বজনদের বাড়িঘরে আশ্রীত হিসেবে বসবাস করছেন এসব পরিবার।
উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্য চিংদামো রাখাইন বলেন, ‘পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য দ্বিতীয় দফায় জমি অধিগ্রহনের সময় আমাদের ২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বসতভিটা অধিগ্রহণ করা হয়। আমাদের সাথে পূর্ব কোনো আলোচনা ছাড়াই আমাদের বসতবাড়ী অধিগ্রহন করা হয়।
অধিগ্রহণের পরে শুধুমাত্র গাছপালা ও বসতবাড়ীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে আমরা কিছু টাকা পেয়েছি, কিন্তু ভোগদখলকৃত জমির ক্ষতিপূরণ এখনো পাইনি। দীর্ঘ ৪২ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা বাসা ভাড়া বাবদ দিবেন বললেও ছয় মাস পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০২২ সালের মে মাস থেকে বাড়িভাড়ার টাকাও দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে পায়রা বন্দর কতৃপক্ষ। আমরা অনতিবিলম্বে আমাদের এই ছয় পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।’
সবশেষ এসব দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য এ বছরের মে মাসে রাখাইন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এই ছয় পরিবারকে দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। কিন্তু আজ অবদি এসব পরিবারের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এরা এখন স্রোতে ভাসা শ্যাওলার মতো ভাসছেন এখানে-ওখানে।
সবশেষ পায়রা বন্দর কতৃপক্ষ এবছরের ২৪ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখায় প্রেরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৬টি পরিবার কতৃক চিহ্নিত মৃত চক্রাও রাখাইনের ৪০ শতাংশ জমি ক্রয় কার্য প্রক্রিয়া সম্পাদনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের অনুরোধ করা হলো। বালিয়াতলী ইউনিয়নের সোনাপাড়া মৌজার ৪০৩ নম্বর খতিয়ানের ৪১১২ নম্বর দাগের ওই জমি ক্রয়ের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। পায়রা বন্দর কতৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ও রাখাইন পরিবার পুনর্বাসন কমিটির সভাপতি ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ নাজমুল হক (বিএন) স্বাক্ষরিত এই চিঠিই এখন উচ্ছেদ হওয়া ছয় রাখাইন পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। যার দিকে তারা চেয়ে আছেন তারা।
তবে পায়রা বন্দরের একটি সমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এছয় রাখাইন পরিবারের পুনর্বাসনের জমি ক্রয়ের জন্য সকল প্রক্রিয়া প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি কি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পারমিশনের জন্য প্রক্রিয়া রেডি পর্যায়ে রয়েছে। এক্ষেত্রে চিহ্নিত জমির মালিক কিংবা ছয় পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি বন্দর কতৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম এর বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাখাইন মংম্যা বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পায়রা বন্দর কতৃপক্ষের উচিত মানবিক দিক বিবেচনা করে এই ছয় পরিবারকে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।









