পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিন (৩৮)। চার বছর ধরে ব্যবসা করছেন তিনি। নুরাইনপুর বাজারের মসজিদ বিপণিবিতানে তাঁর দোকান, সেখানেই তার সাথে একটি বকের বসবাস। যা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় চার মাস আগে। স্থানীয়ভাবে ‘বকের বাড়ি’ নামে পরিচিত নুরাইনপুর বাজারসংলগ্ন খানবাড়ির একটি বাসা থেকে ঝড়ে পড়ে যায় একটি বকের ছানা। ছানাটিকে আক্রমণ করে একটি গুইসাপ। তখন স্থানীয় ব্যবসায়ী হেমায়েত সেটিকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি সেটিকে সুস্থ করে তোলেন এবং লালন-পালন শুরু করেন। চার মাস ধরে মুক্তভাবে রাখায় হেমায়েতের প্রতি বকটির গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়েছে। দোকানের বাইরে উড়ে গেলেও কিছুক্ষণ পরই আবার ফিরে আসে তাঁর কাছেই।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। একটি সাদা বক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, মানুষের উপস্থিতিতেও কোনো ভয় নেই তার। কিছুক্ষণ পর দোকানের ভেতরে ঢুকে দোকানদার মো. হেমায়েত উদ্দিনের কাছে চলে যায়। গিয়ে তাঁর চেয়ারের হাতলে বসে পড়ে। দোকানের কোনো কিছু নষ্ট করে না, এমনকি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করে।
বকটির মালিক ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন স্বদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বকটির ছোট মাছ পছন্দ। নিয়মিত মাছ কিনে ফ্রিজে রেখে দিই। খাওয়ানোর আগে ঠান্ডা ছাড়িয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দিই। কখনো কখনো নিজের হাতে ধরেও খাওয়াই।’
হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘ভালোবেসে সবকিছু জয় করা যায়, এই বক পাখি তার বাস্তব প্রমাণ। পাখিটি গাছে থাকার কথা থাকলেও ভালোবাসার বন্ধনে তাঁর কাছেই থাকে। উড়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও যায় না। নিজের দুই সন্তানের মতো তিনি বকটিকে ভালোবাসেন।’
উপজেলার নুরাইনপুর নেছারিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘হেমায়েত উদ্দিন ভাই একজন পাখিপ্রেমী মানুষ। এই বকটা অসুস্থ হয়ে অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে পাখিটিকে সেবাযত্ন করে ঔষধ খাওয়াইয়ে ভালো করেছেন। তারপর থেকে পাখিটিকে ছেড়ে দিলেও জঙ্গলে কিংবা দুরে কোথাও চলে যায় না। কাছাকাছি কোথাও গেলে আবার তাড়াতাড়ি চলে আসে। মানুষের ভালোবাসায় পাখিও যে পোষ মানে এটা তার দৃষ্টান্ত।’
পটুয়াখালী প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আপনার থেকে শুনে মনে হলো- পাখিটি পোষ মেনেছে। এটি সমাজের জন্য একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ওই ভদ্রলোকের যত্নে এবং খাবার খাওয়ানোর জন্য মুলত তার প্রতিও পাখিটির মায়া হয়ে গেছে। ওই ভদ্রলোকের কাছে পাখিটি তার আপন ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।’









